বাজেট ঘোষণার পর প্রথম কার্যদিবসে রবিবার,৯ জুন,২০২৪ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বড় দরপতন হয়েছে। জানা গেছে আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। আজ ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে তিন বছর আগের অবস্থানে নেমে এসেছে। সূচকের পাশাপাশি এদিন ৮৭ শতাংশ সিকিউরিটিজের দাম কমেছে। কমেছে লেনদেনও।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ লেনদেন শুরুর পর থেকে সূচক নিম্নমুখী ছিল।বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূচক আরো নিম্নমুখী হতে থাকে, যা লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত বজায় ছিল। আজ ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৫.৭৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫১৭১.৫৬ পয়েন্টে। এর আগে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল ডিএসইর প্রধান সূচক সর্বনিম্ন কমে দাঁড়িয়েছিল ৫১৭৭ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ আজ দিন শেষে ২২.৫২ পয়েন্ট কমে ১৮৩৫.৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে ছিল ১৮৫৮ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস দিন শেষে ১৫.৯৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১১২০.৮২ পয়েন্টে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১১৩৭ পয়েন্টে।
উল্লেখ্য প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজার নিয়ে কোনো ইতিবাচক ঘোষণা না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট বেড়েছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে।মূলধনি মুনাফার ওপর করারোপ, তালিকাভুক্ত কোম্পানির অপরিবর্তিত করের পাশাপাশি কোনো প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা ঘোষণা না করার প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে।
আজ সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও লাফার্জহোলসিমের শেয়ারের।
ডিএসইতে আজ ৩৫৭.৯০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে ৫৪২.৬০ কোটি টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৩৪ শতাংশ। ডিএসইতে মোট ৩৯২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ৩৩টি কোম্পানির, কমেছে ৩৪০ কোম্পানির দর কমেছে। আর অপরিবর্তিত ছিল ১৯টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, আজ ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৮.৯ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে ছিল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮.১ শতাংশ দখলে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের। ১২.৪ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত। মোট লেনদেনের ৮.৮ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। আর জ্বালানি খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৫.৯ শতাংশ।
ডিএসইতে আজ প্রায় সব খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। কেবল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে দশমিক ১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল কাগজ, পাট ও জীবন বীমা খাত। এ তিন খাতে রিটার্ন এসেছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৮, ২ দশমিক ৭ ও ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
অপরদিকে দেশের আরেক শেয়ারবাজারের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই আজ ১০৬.৩৬ পয়েন্ট কমে ১৪৮৪০.৪৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৪ হাজার ৯৪৭ পয়েন্টে।

আজ এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২১৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৪টির, কমেছে ১৫১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩২টির বাজারদর। আজ সিএসইতে ১০৭.৮২ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৪.৩২ কোটি টাকা।