খেলাপি হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাঁচটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ১৭ হাজার ৩৩২ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীকে ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড থেকে ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এ অর্থ বিতরণ শুরু হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিপূরণের আওতায় আসা বিনিয়োগকারীরা পাঁচটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মশিহর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড এবং ব্যাংকো সিকিউরিটিজ। এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ ২৫০ কোটি টাকার বেশি বলে জানানো হয়েছে।
সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পাবেন বিনিয়োগকারীরা
ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম জানান, যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদিত দাবির বিপরীতে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন।
তিনি বলেন, পুরো অর্থ বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুই মাসের কিছু বেশি সময় লাগতে পারে।
কঠোর হচ্ছে ব্রোকারেজ তদারকি
ভবিষ্যতে কোনো ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান যাতে বিনিয়োগকারীদের অর্থের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, সে বিষয়ে ডিএসইর তদারকি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে বলে জানান মমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাজারের ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আত্মসাতের ঘটনায় মামলা
ডিএসই চেয়ারম্যান জানান, সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় চারটি মামলা বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের একটি অংশকে ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক শৃঙ্খলা, গ্রাহকের অর্থ ও সিকিউরিটিজের পৃথক হিসাব এবং নিয়মিত তদারকি কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা জরুরি।