অর্থ লিপি

২৪ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার ৮ কার্তিক ১৪৩৩

প্রিয়তমা মেঘমায়াকে লেখা শরতাকাশের চিঠি ‘দায়ভার’

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

প্রিয়তমা মেঘমায়া,

শুরুতেই বিষাক্ত নরক ভূমির বিষাক্ত নরকের ফুল অলেন্ডার শুভেচ্ছা জানাই তোমাকে। আজি হতে সহস্রাব্দ বছর আগে, তোমার আমার জন্য স্বর্গরাজ্য থেকে একটা রামধনু সত্তদা করতে চেয়েছিলাম। সেখানে কিছু কাঁশফুলও ছিল, ছিলো কিছু নিরীহ বেদুইন। একটা বন্ধু নদী আর আমার ঘোড়শওয়াল একটা বন্ধু গাছ।

তখন স্বর্গরাজ্য পাহারায় ছিল কালো হিংস্র হায়না ও নেকড়েরা, যাদের চোখ ছিল ধ্বংস অনল, রক্তে ছিল তরলের আদলে ইন্ধন বারুদ দাবানল। যাদের হাতে, আঙ্গুলে ও নখে ছিল রাসেল ভাইপারের বিষ। এসবে আমি ক্ষত বিক্ষত মরে মরে বেঁচে আছি শতবার।

কোন এক শরতে আমি ক্লান্তরুপে বর্ণিল শরৎ খেয়েলি আকশে হারিয়ে বরুন হয়েছিলাম শরতের আরেক খেয়ালি কাশবনে। প্রতিবারের মতোই অদ্ভুত খেয়ালের শরতেই বর্ণিল শ্বেত কাশবনে আমি ছুটে যাই ধ্বংস কিংবা সৃষ্টির আশায়।

দেখা হয়, হতে হয় আমার জন্মবন্ধু বোহেমিয়ান জীবনের। এ নিয়তি নয় নিয়ম।

আমার শরীরেই আছে অবারিত হায়না ও নেকড়ের জখমের শত শত ক্ষত। রাসেল ভাইপারের সহস্রাব্দ ছোবলের বিষ। যা কিছু নিয়েই আমার আজন্ম অন্তিম অভিশাপবাস।

আজি হতে সহস্রাব্দ বছর আছে তোমার আমার জন্য স্বর্গরাজ্য থেকে একটা রামধনু সত্তদা করতে চেয়েছিলাম। যদিও তোমায় তখনও চিনতাম না। (কিন্তু জানতাম তুমি আছো) কারণ তখন তুমি ছিলে তোমার বাবার কিংবা মায়ের অনন্ত গহ্বরে।

নরকে নরক ডাইনিদের সঙ্গে কেবলি নরক যুদ্ধে বেঁচে থাকার থাকার তাগিদে – তখনো তোমার আমার হয়নি দেখা। কারণ তখনো আমি অনেক দূর পৃথিরবীর এই লোকবেশ্যা কানন থেকি।

তার আগেই শহর কন্টক নগরে এসে আবারও রক্তাক্ত আমার অনাখাঙ্ঘিত জন্ম দেহখানা।

প্রকৃতির নিয়মে আর প্রকৃতিতে থাকা হিংস্রতায় আমার অনাখাঙ্খিতো ও অপ্রয়োজনীয় জন্ম শরীর ক্লান্ত প্রায়। এখনও বাকি আমার যাওয়া পুষ্পকানন নগরে যেখানে তোমার বাস।

আমার অনন্ত ছোট পুষ্পকানোনলয় যেখানে আছো তুমি।

নির্মম পরিণতি ও পরিহাসের বিষয় এখানেও তোমার আমার আজন্ম অন্তিম দায়, এখানেও তোমার আমার লড়াই। এখানে তুমি এক সদ্য জন্ম নেয়া মেঘসাবক নরম তুলতুলে, তুমি শিমুল তুলার মতো সুন্দর ও কোমল।

তোমার জন্মলংগ্ন থেকে তোমাকে ঘিরে আছে ধবধবে সাদা দুধের অগণিত শ্বেত মাছি আর কিছু হ্যাংগিং হাঙ্গার। যারা শুষে নিচ্ছিলো তোমার স্বস্তি। তোমাকে প্রিয় মেঘসাবক, নরম তুলতুলে ধবল শুষে শুষে তোমাকে একটা খটখটে বিশাল মহান পাহাড় করে ফেলেছে।

অবশেষে তোমার আমার হয় দেখা পুষ্পনগরে নয়, নরক ভূমিতে।

এখানে আমার ক্লান্তি তোমাকে ভেজাতে পারছেনা, তোমাকে ভিজিয়ে খটখটে মরু পাহাড় থেকে সবুজ শ্যামল এক সবুজ পরী বা সবুজ অরণ্যময় পাহাড় করতে পারলাম না। এখানেও আমার ন্যুনতায় আজন্ম দায়। দূরে দূর হতে হতে বাড়ে তোমার আমার বিরহকাল, বয়েই চলে মহান সময়কাল।

ক্ষমা করো মেঘসাবক, তুমি আবার হও ভারী মেঘ ভাঁসো ভাঁসাও তোমায় আমায়, কিছুটা রুক্ষতা করে ক্ষমা। এতো হতাশা, ব্যর্থতা ও বিধ্বস্ততার মাঝেও চলো হই সম্ভব রকম সুখী।

নিমন্ত্রণ ক্ষমা করতে মেঘবালিকা মেঘোমায়া তোমায় জানায় তোমার ক্ষমায় ক্ষমায়

                                                                                      খেয়ালি শরতাকাশ

                                                                                          ১০১ নরক ভূমি

                                                                                             নরক নগর

                                                                                         ০৮/১০/২৩২৩

 

Author

  • মানুষের নির্দিষ্ট কোন পরিচয় নেই। মানুষের পরিচয় সময়ের সঙ্গে বদলে যায়৷ তাই চাপিয়ে দেওয়া কোনো পরিচয়ের প্রতি কবির বিশেষ আস্থা নেই। পরিচয়ের তকমা তাকে ক্লান্ত করে। তবে তিনি নিশ্চিত এই নরক ভূমির 'নরক নগরী 'র নরক সন্তান। এর পরও কিছু থাকতেই হয় জাগতিক নিয়মের দলিলে। কবির নাম টিএম মিলজার হোসেন, তিনি একজন মানুষ, একজন বাঙালি, বাংলাদেশী ও সর্বোপরি এই পৃথিবীর সন্তান। কবি, বাংলার শুদ্ধতম কবিখ্যাত জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত ধানসিঁড়ি নদীর তীরবর্তী জনপদে জন্ম নিয়েছেন৷ তার কবিতায় বারবার ফিরে আসে মানুষ, সময়, অস্তিত্ব এবং নরকসম বাস্তবতার অনুষঙ্গ। আপাতত তিনি কাব্যগ্রন্থ 'নরক নগরী'র রচয়িতা... তার প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম 'নরক ভূমি'।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।