সরকারের স্বল্পমেয়াদে ধার নেওয়ার অন্যতম টুল ট্রেজারি বিল এবং দীর্ঘমেয়াদে ধার নেওয়ার টুল ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সরকারের চাহিদার তুলনায় ব্যাংকগুলোতে অর্থের যোগান বেশি থাকায় ট্রেজারি বিল-বন্ডে সুদহার কমেছে।
ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদের হার কমাতে গত ১ মাসে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর। লেনদেনে পেয়েছে কিছুটা গতি, লেনদেন বৃদ্ধিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও রয়েছেন, কিছুটা স্বস্তিতে। নিয়ম অনুযায়ী, সুদহার বাড়লে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পরে। অন্যদিকে সুদহার কমলে ইতিবাচক চিত্র দেখা যায় শেয়ার বাজারে।
ট্রেজারি বিল-বন্ডে সুদহার কমায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে । বাজার মূলধনেও রয়েছে ইতিবাচক প্রভাব।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে বিল ও বন্ডে সুদহার কমেছে ১০৭ থেকে ১৮১ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত।
ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে বিল ও বন্ডে সুদহার কমেছিল ১০ থেকে ২৯ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত।
ট্রেজারি বিল এক ধরনের স্বল্প মেয়াদি আর্থিক ঋণপত্র, যা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকার থেকে জারি করা হয়। মেয়াদ হয় ৯১ থেকে ৩৬৪ দিন পর্যন্ত।ট্রেজারি বিল নিরাপদ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবেও পরিচিত। কারণ এর ওপর সুদ পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে।
ট্রেজারি বন্ড হলো দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ঋণপত্র। এটাও সরকার জারি করে। মেয়াদ হয় ২ বছর থেকে ২০ বছর।
ফেব্রুয়ারিতে ৩৬৪ দিনের টেজারি বিলের সুদের হার দাঁড়ায় ১০.৩৫ শতাংশ। জানুয়ারিতে ছিল ১১ .৯৫ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে সুদহার কমেছে ১৬০ বেসিস পয়েন্ট।
ফেব্রুয়ারিতে দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ হার ছিল ১০.৯৮ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ১২.১৮ শতাংশ।
ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদ দাঁড়িয়েছে ১০.৪৭ শতাংশ; জানুয়ারিতে ছিল ১২.১০ শতাংশ। সেই হিসাবে সুদহার কমেছে ১৬৩ বেসিস পয়েন্ট।
১০ বছর মেয়াদি বন্ডে সুদের হার দাঁড়িয়েছে ১০.২৭ শতাংশ। গেল মাসে ছিল ১২.০৮ শতাংশ। সে হিসাবে সুদহার কমেছে ১৮১ শতাংশ পয়েন্ট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারিতে ১৫ ও ২০ বছর মেয়াদি বন্ডের নিলাম হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উর্ধতন এক কর্মকর্তা বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ফেব্রুয়ারির যে কয়েক দিন বাকি আছে, সেখানে ১৫ ও ২০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদ হারও কমবে।
উল্লেখ্য ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের দর বাড়তে থাকে। তখন অনেক ব্যাংকার বলেন, বেশি সুদ ও শতভাগ নিরাপত্তা থাকায় ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ বেড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরও এ বিষয়ে কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, ‘ট্রেজারি বিল-বন্ডে সুদের হার কমছে। ব্যাংকগুলো এ খাতে বিনিয়োগ করে শুয়ে শুয়ে মুনাফা করেছে। তবে এ সুযোগ সামনে ব্যাংকগুলো পাবে না। আমানত বিনিয়োগ করেই ব্যবসা করতে হবে ব্যাংকগুলোকে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদের হার কমে যাওয়ার কারণ হল সরকারের চাহিদার চেয়ে যোগান বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণ দেওয়ার প্রবৃদ্ধি কমেছে। ডিসেম্বর শেষে প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৭.২৮ শতাংশ, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।।এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে কোভিড মহামারীর মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ৭.৫৫ শতাংশে নেমেছিল।
গত এক বছর যাবত ট্রেজারি বিল-বন্ডে সুদ তুলনামূলক বেশি। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ খাতে অনেক বেশি বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জন করেছে ।যে কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এ বছরের লভ্যাংশে ইতিবাচক প্রভাব পরতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অনেকে।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।