সাম্প্রতিক দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেয়ার বাজারে কিছুটা গতি ফিরেছে। অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বাজারে সক্রিয় হচ্ছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আশার সঞ্চার হয়েছে।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে এত দিন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছিল, তাই বাজারমুখী হয়নি অনেকে।
বাজারে আস্থা ফিরে এলে ভবিষ্যতে আরও অনেক বিনিয়োগকারী বাজারমূখী হবে বলে বিভিন্ন বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধারণা করছেন।
শেয়ার বাজারে কিছুটা গতি ফেরার ফলে গত ৬ দিনে ছয় হাজারের বেশি নতুন বিনিয়োগকারী যুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীদেরও অনেকে সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। গত ৬ কার্যদিবসে মোট ৬৪৫৭ জন নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে সক্রিয় হয়েছেন। শেয়ার বাজারের বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ দিনে শেয়ার বাজারে নতুন বিও হিসাব খোলা হয়েছে ৩ হাজার ৮৮৪ টি। আর ৫ কার্যদিবসে নিষ্ক্রিয় বিও হিসাবগুলোর মধ্য থেকে ৬ হাজার ৪৫৭ টি সক্রিয় হয়েছে। ১১ আগস্ট শেয়ার বাজারে শেয়ার আছে এমন সক্রিয় বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৮৮ হাজার ২৯৪। ১৫ আগস্ট লেনদেন শেষে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫১।
নিষ্ক্রিয় বিও হিসাব সক্রিয় হতে শুরু করায় শেয়ার বাজারে শেয়ার শূন্য অর্থাৎ শেয়ার নেই এমন বিও হিসাবের সংখ্যা কমছে। সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট বাজারে শেয়ার শূন্য বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫২৩। গত ১৫ আগস্ট এই সংখ্যা কমে হয় ৩ লাখ ১৩ হাজার ০০২। সেই হিসাবে গত ৫ কার্যদিবসে শেয়ার শূন্য বিও হিসাবের সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৫২১ টি।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর টানা কয়েক দিন শেয়ার বাজারে বড় ধরনের উত্থান ঘটে। ৬ আগস্ট থেকে গতকাল ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সাত কার্যদিবসে প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৭৮ পয়েন্ট বা প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। এই সাত দিনের মধ্যে টানা চার দিনই সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। আর সূচক কমেছে টানা তিন দিন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের আশার সঞ্চার হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে এত দিন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছিল, তাই বাজারমুখী হননি অনেক বিনিনিয়োগকারী। অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর অর্থনীতি ও শেয়ার বাজার নিয়ে অভিজ্ঞতা থাকার কারণে এই খাতের বেশ কিছু সংস্কার হবে এবং সুফল মিলবে বাজারে।
এমন আশায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। তাছাড়া বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান আসছে তিনি বাজারে কারসাজি ও অনিয়ম রোধে সক্রিয় হলে তাতে বাজারে নতুন করে গতির সঞ্চার হবে। দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি সক্রিয় হবেন বাজারে।