দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছে সরকার। এ জন্য ধাপে ধাপে অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করছেন সরকারের প্রতিনিধিরা। তারই অংশ হিসেবে গত বুধবার ৪ অক্টোবর ,২০২৩ বিকেলে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়েছিলেন সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান।
দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকটে বড়দের ঋণ কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নীতি সুদহার বাড়িয়ে বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কমাতে ‘সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতি’ গ্রহণ এবং খরচ কমাতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
অর্থনীতির এ কঠিন সময়ে বড় বড় ব্যবসায়ীর ঋণ কমিয়ে দিয়ে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বেশি ঋণ দেওয়ার পরামর্শ দেন আতিউর রহমান। বিশেষ করে কৃষি ও এসএমই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ) খাতে ঋণ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। বৈঠকে তিনি বলেন, বড় ব্যবসায়ীরা ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে যত বেশি আগ্রহ দেখান, ঋণ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা তত বেশি আগ্রহী হন না। বিপরীতে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ নিলে সেই ঋণ ফেরত দেন। চলমান এ সংকটে তাই বড়দের ঋণ কিছুটা কমিয়ে দিলে তাতে খুব বেশি সমস্যা হবে না। ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে যাতে ব্যাংকগুলো বেশি আগ্রহী হয়, সে জন্য ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম বা ঋণ নিশ্চয়তা কর্মসূচি দ্রুত চালুর জন্যও সরকারকে তিনি পরামর্শ দেন বলে জানা যায়।
মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে হলে এ মুহূর্তে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই। এ মুহূর্তে প্রবৃদ্ধির চেয়ে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বড় বিষয়। তাই সরকারের খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন।খুব জরুরি প্রকল্প ছাড়া অন্যান্য প্রকল্প ব্যয় এ সময় না করলে তাতে কিছুটা হলেও সাশ্রয় হবে বৈদেশিক মুদ্রার।
আতিউর রহমান আরও বলেন, ‘সার্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে নিত্য ব্যবহার্য পণ্য ও জ্বালানি আমদানিতে সতর্কতার সঙ্গে ডলারের জোগান দিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি আগামীতে অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতি জোর দেওয়া ও খেলাপি ঋণের চাপ থেকে অর্থনীতিকে ভারমুক্ত করার পরামর্শ দেন।