দেশে ব্যাংকের মতো ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি অধিগ্রহণ বা হস্তান্তরে নতুন আইন হচ্ছে। নতুন এ আইন পাস হলে বিমাকারী অর্থাৎ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ার, সম্পদ ও দায় তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা যাবে। এ ছাড়া এক বা একাধিক ব্রিজ বিমাকারী বা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিও গঠনের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি বিদ্যমান শেয়ার ধারক বা নতুন শেয়ার ধারকদের মাধ্যমে মূলধনও বাড়ানো যাবে এ অধ্যাদেশ জারি হলে।
বিমাকারীর রেজল্যুশন অধ্যাদেশ নামে নতুন এ আইনের একটি খসড়া গত বুধবার (২৫ জুন) চূড়ান্ত করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। সংস্থাটি আগামী রবিবার তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠাতে পারে।
ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ হওয়ার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক যেমন দুর্বল ব্যাংকগুলোকে বাঁচানোর ব্যাপারে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করেছে, বিমাকারীর রেজল্যুশন অধ্যাদেশ পাস হলেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা যাবে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।
এ বিষয়ে আইডিআর এর মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি গনমাধ্যম কর্মীদের বলেন, পলিসিহোল্ডারদের স্বার্থরক্ষায় নতুন এ অধ্যাদেশ করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের পলিসির টাকা পাওয়া নিশ্চিত করা যাবে। এ ছাড়া দুর্বল ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা ও তাদের সুশাসনের মধ্যে ফেরানো হচ্ছে এ অধ্যাদেশ প্রণয়নের উদ্দেশ্য।
অধ্যাদেশের খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রয়োজনে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্পদ বিক্রি করে অর্থ উদ্ধারের পর তা পলিসি হোল্ডারদের দেওয়া যাবে। এমনকি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর মালিকানা পরিবর্তন এবং এক কোম্পানির সঙ্গে আরেক কোম্পানির একীভূত করার পথও সহজ হবে।
রেজল্যুশনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য আইডিআরএ ‘বিমা পুনর্গঠন ও রেজল্যুশন তহবিল’ নামে একটি তহবিল গঠন করবে। এ তহবিলে সরকার যেমন ঋণ ও অনুদান দেবে, একইভাবে উন্নয়ন সহযোগী ও আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার কাছ থেকেও অর্থ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। অধ্যাদেশের আওতায় আইডিআরএ যেকোনো ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারবে, আবার দরকারে বাতিলও করতে পারবে।
ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আওতায় যেমন ব্যাংক খাত সংকট ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল নামে একটি আন্তপ্রাতিষ্ঠানিক সংস্থা গঠনের কথা বলা হয়েছে, এ অধ্যাদেশেও একই ধরনের কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এ কাউন্সিল বিমা খাতের সংকট ব্যবস্থাপনা কৌশল এবং আপৎকালীন বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করবে।
আট সদস্যের এ কাউন্সিলের প্রধান হবেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান। অন্যদের মধ্যে থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ, রেজল্যুশনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আইডিআরএর একজন সদস্য এবং আইডিআরএ চেয়ারম্যানের মনোনীত আরেকজন সদস্য। কাউন্সিল প্রতি তিন মাসে একটি করে বৈঠক করবে।
আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা লাইফ, বায়রা লাইফ, সানফ্লাওয়ার লাইফ, সান লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ—এসব ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি গ্রাহকদের পাওনা পুরোপুরি ফেরত দিতে পারছে না। গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে এ ছয় কোম্পানিকে নিয়ে তিন মাস আগে একটি পর্যালোচনা বৈঠকও করেছে আইডিআরএ। এখন পর্যন্ত এ বৈঠকের ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। নতুন অধ্যাদেশ হলে এ কোম্পানিগুলোর প্রতি প্রথম নজরে থাকবে আইডিআরএ। তবে এগুলো ছাড়া আরও দুর্বল কোম্পানি রয়েছে বিমা খাতে।