প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব পরিচয় (identity) আছে। তার চেহারা, স্বভাব, আচরণ ও কর্ম দ্বারাই তার ব্যক্তিত্ব বা পরিচয় ফুটে উঠে। আমরা কাউকে ভালো মানুষ, কাউকে খারাপ মানুষ, কাউকে ভদ্র, কাউকে বদরাগী, কাউকে উগ্র, কাউকে শান্ত, নানা ভাবে বিশেষন করে থাকি।
আমাদের আচরণ, স্বভাব ও কর্ম নিয়ন্ত্রিত হয় আমাদের আবেগ (emotions) দ্বারা। আসলে আমরা আবেগের দাস। ভয়, রাগ, উত্তেজনা, ঘৃণা, প্রতিহিংসা, হতাশা এগুলো হলো নেতিবাচক আবেগ। অপর দিকে প্রেম, ভালোবাসা, সমবেদনা, দয়া, মায়া এগুলো হলো ইতিবাচক আবেগ। এসব আবেগ তাড়িত হয়ে আমরা ভাল কাজ বা মন্দ কাজ করি।
আবেগগুলো কোথা থেকে আসে? আমাদের ব্রেইন থেকে অর্থাৎ আমাদের চিন্তাভাবনা থেকে। মানুষ প্রতিটি মুহূর্তে কোন না কোন চিন্তা করে থাকে। ব্রেইনে অবিরাম চিন্তার প্রবাহ চলমান। এই মুহূর্তে যা চিন্তা করছেন কিছুক্ষণের মধ্যে তা আপনার আচরণ ও কর্মে তা প্রকাশ পাবে।
একই পরিবেশ–পরিস্থিতিতে সকল মানুষ একই রকম চিন্তা করে না। একেক জনের চিন্তার ক্ষেত্র ভিন্ন। ফলে তারা প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ভিন্ন ভিন্ন আচরণ ও কর্ম করে। চিন্তার এই ভিন্নতার কারণ তাদের বিশ্বাসের বৈচিত্র্য। এই বিশ্বাস (beliefs) হচ্ছে মানুষের চিন্তা–চেতনা, আচার–আচরণ ও কর্মের কেন্দ্র বিন্দু বা মূল (core)।
প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব ধ্যান-ধারণা বা বিশ্বাস আছে। এটাকে অনেকে তার দর্শন বাফিলোসোফিও বলে। এই বিশ্বাস সহজে পরিবর্তন করা যায় না। কেউ তার বিশ্বাসে আঘাত করলে সে হিংস্র হয়ে উঠে। পক্ষান্তরে অন্যের বিশ্বাস তার বিশ্বাসের সাথে মিলে গেলে সে তা সমর্থন করে। এই বিশ্বাস কিভাবে সৃষ্টি হয়? বিশ্বাস সৃষ্টি হয় ব্যক্তির পরিবার, সমাজ, শিক্ষা ওঅভিজ্ঞতা থেকে।
ব্যক্তিত্বের পুনর্নির্মাণ করতে চাইলে মনকে নরম ও উদার (liberal) করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক জ্ঞানের আলো।
প্রত্যেকের বিশ্বাস বা দর্শনে কিছু না কিছু ভুল–ভ্রান্তি থাকা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু অধিকাংশমানুষ তা সহজে মেনে নিতে চায় না এবং তা সংশোধন করতে চায় না। আপনার ব্যক্তিত্বের পুনর্নির্মাণ করতে চাইলে মনকে নরম ও উদার (liberal) করতে হবে। এরপর চাই সঠিক জ্ঞানের আলো (enlightenment)। ভাল বই আপনার ব্যক্তিত্বের পরিশোধনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
সুতরাং জ্ঞানের আলো আপনার বিশ্বাস, চিন্তা, স্বভাব, আচরণ ও কর্মের ব্যাপক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে তৈরি হয় ব্যক্তির নতুন পরিচয়।