অর্থ লিপি

২৭ জুন ২০২৬ শনিবার ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

হজের কোটা ফেরত যাচ্ছে বেশি প্যাকেজ মূল্যের কারণে,মধ্যবিত্তদের আগ্রহ কম

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

গতকাল বৃহস্পতিবার(১ ফেব্রুয়ারি) চতুর্থ দফায় হজ নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ।কয়েক দফা সময় বৃদ্ধির পরও এইবছর  বেশি বিমান ভাড়া এবং হজ প্যাকেজের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের কারনে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ গমনেচ্ছুদের নিবন্ধনে ভাটা পড়েছে। পূরণ হচ্ছে না স্বচ্ছল মুসলমানের ফরজ ইবাদত হজের কোটা।

জানা গিয়েছে সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, এবছর বাংলাদেশ থেকে হজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনকে। তবে গতকাল(১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিবন্ধনের শেষ সময় পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৫ হাজার২৯৬ জন এবং সরকারী ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ১৬৫ জন। এখনো প্রায় ৪৮ হাজার হজ গমনেচ্ছুদের কোটা ফাঁকা রয়েছে। ফলে গত বছরের মতো এবারও কোটা পূরণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে ,আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি সরকারকে জানিয়ে কোটা সারেন্ডার করতে হবে। বাংলাদেশি কোটার ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ হজযাত্রীর জন্য মাথাপিছু সিকিউরিটি মানি হিসাবে ২৮ রিয়াল করে জমা দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সৌদি সরকারকে মোট সংখ্যা না জানালে বাকি সিকিউরিটি মানি (অর্থ) ফেরত পাওয়া যাবে না।

বিভিন্ন হজ এজেন্সি বলছে, প্যাকেজে বাড়ি ভাড়া, বিমান ভাড়া, সৌদি আরবে যাতায়াত খরচ মাত্রাতিরিক্ত ধার্য করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ট্যাক্সও অস্বাভাবিক। নির্ধারিত এয়ারলাইন্স ছাড়া হজযাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাংলাদেশ বিমান, সাউদিয়া এয়ার লাইন্স এবং নাস এয়ার ছাড়া অন্য কোন উড়োজাহাজে হজে যাওয়া আসা করার সুযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি চিহ্নিত সিন্ডিকেট হজযাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য থার্ড ক্যারিয়ারের সুযোগ বন্ধ করেছে। সিন্ডিকেটমুক্ত হলে ৫ লাখ টাকার মধ্যে কোরবানীসহ হজ করা সম্ভব। এই মনোপলির বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করে গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হাইকোর্ট রুল জারি করলেও কোন সিদ্ধান্ত আসেনি।

বেশ কয়েকজন এজেন্সি মালিক জানান, হজ প্যাকেজের অতি উচ্চমূল্যের কারণে হজ গমনেচ্ছুদের অনেকের বাজেটে কুলাচ্ছে না। বর্তমানে দেশে অর্থনৈতিক সংকট চলছে। নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম। সংসার চালাতে সাধারণ মানুষের হিমশিম অবস্থা। এ ছাড়া শিক্ষা-চিকিৎসাসহ সব খাতে খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। হজের জন্য যারা অল্প অল্প করে দীর্ঘদিন টাকা জমিয়েছেন তাদেরও বাজেটে টানাটানি। ফলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মধ্যবিত্তরা এবার হজের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছেন। তাদের অনেকেই হজের পরিবর্তে অল্প টাকায় ওমরাহের দিকে ঝুঁকছেন। তবে দেশের সার্বিক অর্থনীতির চাকা সচল হলে ফের হজযাত্রীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি ২০২৪ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার দুইটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা। আর বিশেষ প্যাকেজের মূল্য ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা। অপরদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দুইটি প্যাকেজের মূল্য যথাক্রমে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮১৮ টাকা। যদিও গত বছরের চেয়ে এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৯০ হাজার টাকা কমানো হয়েছে ব্যয়। তবুও বর্তমান হজ প্যাকেজের মূল্যকে অনেক বেশি মনে করছেন হজে যেতে আগ্রহীরা।

একটি হজ এজেন্সির পরিচালক জানালেন আমাদের দেশের চেয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় হজের খরচ তুলনামূলক অনেক কম। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ কোন দেশেই হজ করতে এমন উচ্চমূল্য দিতে হয় না।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।