বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে, ট্রেজারি ইল্ড বেড়ে যাওয়া এবং তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির চাপে।
সুদের হারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের জুলাই মাসের নীতি নির্ধারণী সভার কার্যবিবরণীর অপেক্ষায় ছিলেন ব্যবসায়ীরা।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯৭.৪২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচার ০.৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৫২.৯০ ডলারে নেমে এসেছে।
বেঞ্চমার্ক ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি নোটের ইল্ড বেড়ে যাওয়ায় সুদ না দেয়া সোনা ধরে রাখার সুযোগ ব্যয়ও বেড়েছে। এতে মূল্যবান ধাতুটির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান ‘পূর্ণাঙ্গ আক্রমণাত্মক’ সামরিক অবস্থানে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। এসব কারণে তেলের দামও কিছুটা বেড়েছে।
সাধারণত জ্বালানির দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ে এবং উচ্চ সুদের হারের প্রত্যাশাও জোরদার হয়। যদিও সোনাকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে দেখা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার সুদ না দেয়া সোনার আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
তবে জুলাইয়ে অপ্রত্যাশিত কর্মী ছাঁটাই, প্রত্যাশার চেয়ে কম ভোক্তা মূল্যস্ফীতি এবং দুর্বল খুচরা বিক্রির তথ্যের কারণে সেপ্টেম্বরে সুদের হার এক-চতুর্থাংশ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ার বাজারের প্রত্যাশা বদলে গেছে। এখন সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ।
এদিকে, বিনিয়োগকারীরা ফেডের সর্বশেষ নীতি নির্ধারণী সভার কার্যবিবরণীর জন্য অপেক্ষা করছেন। বুধবার এটি প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
রয়টার্সের টেকনিক্যাল বিশ্লেষক ওয়াং তাওয়ের মতে, স্পট সোনার দাম ৪ হাজার ৩৮১ ডলারের সাপোর্ট লেভেল পরীক্ষা করতে পারে। এই স্তরের নিচে নেমে গেলে দাম ৪ হাজার ৩২০ থেকে ৪ হাজার ৩৫১ ডলারের সীমায় চলে যেতে পারে।