অর্থ লিপি

১৮ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

সব ধরনের চাকরিজীবীদের যে সব আয়ে কর দিতে হবে

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

সব ধরনের চাকরিজীবীর জন্য আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এটি সম্পূর্ণভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কিন্তু চাকরিজীবীদের কোন কোন আয় করের আওতায় আসবে, সে বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি প্রকাশিত চলতি অর্থবছরের আয়কর নির্দেশিকায় বিস্তারিত বলা হয়েছে।
নির্দেশিকায় দেখা যায়, সরকারি চাকরিজীবীদের মোট ১৫ ধরনের আয় করযোগ্য ধরা হয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ১১ ধরনের আয়ে কর দিতে হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ১৫ ধরনের আয়ে কর ধার্য করা হয়েছে। এগুলো হলো:১. মূল বেতন: সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন করের আওতায় পড়বে।

২. বকেয়া বেতন: কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি আগের কোনো বকেয়া বেতন পেয়ে থাকেন, সেখানেও কর দিতে হবে।

৩. বিশেষ বেতন: অতিরিক্ত দায়িত্ব বা বিশেষ কাজের জন্য বেতন মেলে।

৪. বাড়িভাড়া: বাড়ি ভাড়ার টাকা করের আওতাযুক্ত। এটি আয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে।

৫. চিকিৎসা ভাতা: প্রতি মাসে বেতনের সঙ্গে চিকিৎসা ভাতা পান সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

৬. যাতায়াত ভাতা: চিকিৎসা ভাতার মতো প্রতি মাসের বেতনের সঙ্গে যাতায়াত ভাতাও পান তাঁরা।

৭. উৎসব ভাতা: ঈদ, দুর্গাপূজার মতো নানা ধরনের উৎসব উপলক্ষে ভাতার অর্থও করের আওতায় আসবে।

৮. সহায়ক কর্মীর ভাতা: ড্রাইভার, দারোয়ান বা অন্য কর্মী রাখার জন্য সরকার থেকে যদি ভাতা দেওয়া হয়, তাতেও কর দিতে হবে।

৯. ছুটি ভাতা: কোনো সরকারি চাকরিজীবীর অব্যবহৃত প্রাপ্য ছুটি নগদায়ন করলে টাকা পান। এ ধরনের আয়েও কর বসবে।

১০. সম্মানী ও পুরস্কার: বিশেষ কাজের জন্য প্রাপ্ত সম্মানী বা পুরস্কার অর্থ।

১১. ওভারটাইম ভাতা: অফিসের জন্য বাড়তি সময় কাজ করলে ওভারটাইম ভাতা পান সরকারি চাকরিজীবীরা।

১২. বৈশাখী ভাতা: গত কয়েক বছর ধরে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বৈশাখী ভাতা পেয়ে আসছেন। এই ভাতাও করের আওতায় পড়বে।

১৩. ভবিষ্য তহবিলে সুদ: সরকারি ভবিষ্য তহবিলে জমা টাকার ওপর প্রাপ্ত সুদের ওপর কর বসে।

১৪. লাম্পগ্র্যান্ট: এককালীন প্রদত্ত ভাতার ওপর কর বসবে।

১৫. গ্র্যাচুইটি: এটি অবসর বা চাকরি ছাড়ার সময় প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা, যা করযুক্ত।

বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ১১ ধরনের আয়ে কর দিতে হবে। এগুলো হলো:

১. বেতন: বেসরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বা নির্ধারিত পারিশ্রমিক।

২. ভাতা: করযোগ্য ভাতার মধ্যে পড়বে যাতায়াত, চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভাতা।

৩. অগ্রিম বা বকেয়া বেতন: অগ্রিম বেতন বা জমে থাকা বেতন পেলেও কর দিতে হবে।

৪. আনুতোষিক, অ্যানুইটি, পেনশন: চাকরি শেষে প্রাপ্ত অর্থ বা সুবিধা।

৫. পারকুইজিট: চাকরির অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা (যেমন বিনা খরচে বাসা, বিদ্যুৎ, ফোন বিল ইত্যাদি)।

৬. বেতন বা মজুরির পরিবর্তে প্রাপ্ত অর্থ: যেকোনো বিকল্প আর্থিক সুবিধা।

৭. কর্মচারী শেয়ার স্কিম থেকে আয়: অনেক বেসরকারি চাকরিজীবী নিজের কোম্পানির শেয়ার পান। সেই শেয়ার বোনাস বা ডিভিডেন্ড আকারে প্রাপ্ত অর্থ।

৮. আবাসন সুবিধা: অফিস থেকে বিনা খরচে বা কম খরচে বাড়ি সুবিধা।

৯. মোটরগাড়ি সুবিধা: অফিস থেকে গাড়ি ব্যবহার সুবিধার জন্য যে টাকা দেওয়া হয়, তা করের আওতায় থাকবে।

১০. নিয়োগকর্তার দেওয়া অন্য সুবিধা: এই সুবিধার মধ্যে আছে, ক্লাব সদস্যপদ, ট্যুর সুবিধা ইত্যাদি। এ জন্য যদি আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়।

১১. স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে নিয়োগকর্তার চাঁদা: প্রভিডেন্ট ফান্ডে কোম্পানির দেওয়া অংশও করের আওতায় থাকবে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।