চতুর্থ প্রান্তিকে ১৩৬ কোটি টাকা লোকসান, ইপিএস কমেছে ৬৭ শতাংশ, ৩ মার্চ নো-লিমিটে লেনদেন।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড (বিএটি বাংলাদেশ) ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে।
আগের বছর ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার পর এবার এত কম লভ্যাংশ ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সোমবারের সভায় অনুমোদিত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি ১৩৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ২.৫৩ টাকা।
ডিসেম্বর শেষে পুরো বছরের হিসাবে শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১০.৮১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৭ শতাংশ কম। সিগারেট বিক্রি কমে যাওয়া এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে আয় কমার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানি জানায়, সিগারেট বিক্রির পরিমাণ কমে যাওয়া, আবগারি শুল্ক বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন মহাখালী কারখানা বন্ধ থাকার প্রভাব আয়কে চাপে ফেলেছে।
২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে মহাখালী কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ব্যবসায় কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় বলেও আগের তথ্যে উল্লেখ ছিল। তবে সর্বশেষ মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে লাভ ও লভ্যাংশ কমে যাওয়ার বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি।
তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এবারই সবচেয়ে কম লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, কম লভ্যাংশ ঘোষণার প্রভাব আগামীকাল শেয়ারের দামে পড়তে পারে।
নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও প্রস্তাবিত লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে ৩০ এপ্রিল। রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১ এপ্রিল।
এদিকে ৩ মার্চ কোম্পানিটির শেয়ার নো-লিমিট প্রাইজে লেনদেন হবে। অর্থাৎ এদিন শেয়ারের দাম স্বাভাবিক সার্কিট সীমা ছাড়া ওঠানামা করতে পারবে। ফলে বাজারে শেয়ারটির দামে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।