অর্থ লিপি

২ মে ২০২৬ শনিবার ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

বন্ধ কারখানা সচলে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ: কম সুদের তহবিল, বাড়ছে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান বাড়াতে কম সুদে ঋণ সহায়তার লক্ষ্যে বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আসন্ন বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত প্রথম ১৮ মাসে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য পূরণে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ১৯ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে রয়েছেন চারজন নির্বাহী পরিচালক, ছয়জন পরিচালক, পাঁচজন অতিরিক্ত পরিচালক এবং একজন করে যুগ্ম পরিচালক, উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক। কমিটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং কারখানা পুনরায় চালু করতে কী ধরনের নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়া যায়—সেসব বিষয়েও মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় সচল করার বিষয়ে জোর দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, বন্ধ কারখানা চালু করতে শিগগিরই একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যেসব সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে জালিয়াতি, অর্থপাচার বা গুরুতর অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুবিধার আওতায় আসবে না।

প্রাথমিকভাবে কমিটি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেয়েছে। এগুলো হলো—ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে ডাউনপেমেন্ট শর্ত শিথিল করা, কারখানা চালুর সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তহবিল সহায়তা প্রদান এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যাংকিং সুবিধা সহজ করা। প্রয়োজনে কম মার্জিনে এলসি খোলার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

তবে এসব সুবিধা প্রদানের আগে সংশ্লিষ্ট কারখানার সম্ভাব্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক করা হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত বন্ধ কারখানার তালিকা সংগ্রহ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব কারখানা পুনরায় সচল করার উপায় নিয়ে সরকারকে শিগগিরই একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ দেশের শিল্পখাত পুনরুজ্জীবনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গতি আনতে সক্ষম হবে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।