হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।
তেহরান ও ওমান নতুন নৌপথ নিয়ে একটি চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার ৮৪ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৪ দশমিক ৩৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের ফিউচার ৬০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৭৭ ডলারে উঠেছে।
ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে; এমন আশায় গত সপ্তাহে উভয় সূচকের দাম ৭ শতাংশের বেশি কমেছিল। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
তবে ইরান রোববার জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে চুক্তি এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে। একইসঙ্গে দেশটি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলার জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়টিও রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।
নয়াদিল্লিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এসএস ওয়েলথস্ট্রিটের প্রতিষ্ঠাতা সুগন্ধা সচদেভা বলেন, অপরিশোধিত তেলের দাম এখন পরস্পরবিরোধী বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে আটকে আছে। একদিকে বাজার কৌশলগত এই জলপথ পুনরায় খোলার সম্ভাবনা দেখছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের দেয়া শর্তগুলোও বিবেচনায় নিচ্ছে।
রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো আলোচনা চলছে না। জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি ওয়াশিংটন লঙ্ঘন করলে তেহরানও আলোচনায় যাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, তেলের সরবরাহের ক্ষেত্রে আরও একটি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথিরা জানিয়েছে, তারা সৌদি আরামকোর জাজান শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে।
শিয়া অধ্যুষিত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়ছে। এর মধ্যেই সৌদি আরব সুন্নি মুসলিম মিত্র তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করার দুই দিন পর এই হামলা চালানো হলো।