পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের পাঁচ কোম্পানি পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স ও তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিক ও প্রথম নয় মাসের আর্থিক ফলাফলে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে।
কোম্পানিগুলোর প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ কোম্পানিরই ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে পাঁচ কোম্পানির ইপিএসেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস বেড়েছে ৩২ শতাংশ
পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ২০২৬ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ১৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৯০ পয়সা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের ইপিএস বেড়েছে ২৯ পয়সা বা ৩২.২২ শতাংশ।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ১৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা। এ হিসাবে নয় মাসে ইপিএস বেড়েছে ১ টাকা ১৯ পয়সা বা ৩৯.৬৭ শতাংশ। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৪৮ টাকা ২৮ পয়সা।
পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের আয়েও প্রবৃদ্ধি
পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের (PURABIGEN) তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৬২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৪৫ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইপিএস বেড়েছে ১৭ পয়সা বা ৩৭.৭৮ শতাংশ।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৪৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২৩ পয়সা। ফলে নয় মাসে ইপিএস বেড়েছে ২৩ পয়সা বা ১৮.৭০ শতাংশ।
এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) বেড়ে ১ টাকা ৭৫ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯৩ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৫ টাকা ৮ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এ মূল্য ছিল ১৪ টাকা ২৯ পয়সা।
ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস বেড়েছে
ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের (UNITEDINS) তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৭৩ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৯ পয়সা। সে হিসাবে ইপিএস বেড়েছে ৪ পয়সা বা ৫.৮০ শতাংশ।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৭২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ২ টাকা ৩৫ পয়সা। ফলে নয় মাসে ইপিএস বেড়েছে ৩৭ পয়সা বা ১৫.৭৪ শতাংশ।
জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়ে ৩ টাকা ৪৯ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮২ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ৪৩ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এ মূল্য ছিল ৩১ টাকা ৪ পয়সা।
কোম্পানির প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস বৃদ্ধির কারণ ছিল বেশি আন্ডাররাইটিং মুনাফা। অন্যদিকে, প্রিমিয়াম আদায় বাড়ায় নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে। ইউনাইটেড ফাইন্যান্স লিমিটেডের শেয়ারের ন্যায্য বা বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে কোম্পানিটির এনএভিপিএসও বেড়েছে।
সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস বেড়েছে ৪৬ শতাংশ
সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের (CENTRALINS) ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৭৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৫২ পয়সা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ইপিএস বেড়েছে ২৪ পয়সা বা ৪৬.১৫ শতাংশ।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৪৫ পয়সা। সে হিসাবে নয় মাসে ইপিএস বেড়েছে ৩৪ পয়সা বা ২৩.৪৫ শতাংশ।
এদিকে, জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ হয়েছে ৩ টাকা ৩৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৯৩ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ৪৩ পয়সা, যা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ছিল ৫০ টাকা ৬৯ পয়সা।
তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের নয় মাসের ইপিএস বেড়েছে ৬৬ শতাংশ
তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির (TAKAFULINS) তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৫০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩৯ পয়সা। ফলে তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস বেড়েছে ১১ পয়সা বা ২৮.২১ শতাংশ।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৮৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ১৩ পয়সা। ফলে নয় মাসে ইপিএস বেড়েছে ৭৫ পয়সা বা ৬৬.৩৭ শতাংশ।
তবে একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ কমে ১ টাকা ৫ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৭৪ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির এনএভিপিএস ছিল ২০ টাকা ১০ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এ মূল্য ছিল ১৯ টাকা।
সার্বিক চিত্র
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচটি বিমা কোম্পানির মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএসের শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের। অন্যদিকে, প্রথম নয় মাসে সর্বোচ্চ ইপিএস প্রবৃদ্ধি হয়েছে তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের।
তবে শুধু ইপিএস বৃদ্ধি দিয়ে কোনো কোম্পানির আর্থিক অবস্থার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোম্পানির প্রিমিয়াম আয়, আন্ডাররাইটিং মুনাফা, নগদ প্রবাহ, সম্পদের গুণগত মান, লভ্যাংশের ইতিহাস এবং শেয়ারের বাজারদর বিবেচনা করা প্রয়োজন।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।