অর্থ লিপি

৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

শর্টসেল: আতংকিত হবার কিছু নেই

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

গত মঙ্গলবার ১০০ কোটি টাকার একটি ETF এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা তহবিলের নিবন্ধন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিএসইসি)। এলবি মাল্টি অ্যাসেট ইনকাম ইটিএফ নামে নিবন্ধিত এ তহবিল পরিচালনা করবে লঙ্কা বাংলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি।

এই তহবিলটি বাজারে তালিকাভুক্ত হলে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শর্টসেল’ কার্যক্রম শুরু হবে জানা গিয়েছে।

শর্টসেল’ কার্যক্রম শুরু হবে এই বিষয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক অজানা আতংক সৃষ্টি হয়েছে , বিনিয়োগকারীরা এই প্রতিবেদনটি পড়লে আশা করি ভুল ভেঙে যাবে।

শর্টসেল আসলে কি ?

মূলত শর্টসেল হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে শেয়ার বা তহবিলের ইউনিটের দাম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ পদ্ধতির আওতায় হাতে শেয়ার বা ইউনিট না থাকার পরও বাজারে ক্রয়/বিক্রয়াদেশ দেওয়া যায়।

শর্টসেল চালু হলে শুধুমাত্র এলবি মাল্টি অ্যাসেট ইনকাম ইটিএফ তহবিলের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান গুলোই তাদের তহবিল ফান্ডটি শর্টসেল করতে পারবে।

বিএসইসির নিবন্ধিত নতুন এলবি মাল্টি অ্যাসেট ইনকাম ইটিএফের মাধ্যমে শর্টসেলের সুযোগ পেতে যাচ্ছে বেশ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস। তহবিলটি বাজারে তালিকাভুক্তির পর বাজারমূল্য যদি নির্ধারিত সীমার বেশি ওপরে উঠে যায়, তাহলে বাজারে শর্টসেলের মাধ্যমে বিক্রয়াদেশ বাড়িয়ে এটির দাম নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

এ জন্য তহবিলটির অনুমোদিত (অথরাইজড) অংশগ্রহণকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে তিনটি ব্রোকারেজ হাউস। সেগুলো হলো লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ, গ্রিনডেল্টা সিকিউরিটিজ ও ইউনাইটেড ফাইন্যান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, নিবন্ধিত ইটিএফটির লেনদেন শুরু হয়েছে শেয়ারবাজারে। এটির প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভি ১০ টাকা। সেই হিসাবে এটির ইউনিটের দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বা ১ টাকা বাড়তে পারবে। একই ভাবে দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বা ১ টাকা কমতেও পারবে। এখন ধরা যাক, লেনদেনের শুরুতেই এর প্রতিটি ইউনিটের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে ১১ টাকা হয়ে গেছে।

তাহলে তহবিলটির অনুমোদিত ব্রোকারেজ হাউসগুলো তাদের হাতে তহবিলটির ইউনিট না থাকার পরও বাজারে এ ইউনিট বিক্রি করতে পারবে শর্টসেলের আওতায়। দিন শেষে শর্টসেলের মাধ্যমে এসব ব্রোকারেজ যত ইউনিট বিক্রি করবে, লেনদেন শেষে তার সমপরিমাণ নতুন ইউনিট ইস্যু করবে সম্পদ ব্যবস্থাপক। ইটিএফের ক্ষেত্রে শর্টসেলের এই ব্যবস্থাকে ইউনিট ক্রিয়েশনও বা নতুন ইউনিট সৃষ্টি হিসেবে অভিহিত করা হয়। কারণ, তাৎক্ষণিক শর্টসেলের বিপরীতে নতুন ইউনিট ইস্যু করবে সম্পদ ব্যবস্থাপক।

একই ভাবে তহবিলটির ইউনিটের বাজারমূল্য যখন ১০ শতাংশ বা তার কাছাকাছি কমবে, তখন অনুমোদিত ব্রোকারেজ হাউসগুলো বাজার থেকে ইউনিট কিনে দাম ধরে রাখতে ভূমিকা পালন করবে। দিন শেষে অনুমোদিত ব্রোকারেজ হাউসগুলো তাদের কেনা ইউনিট এনএভিতে সম্পদ ব্যবস্থাপকের কাছে হস্তান্তর করবে। ইটিএফের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থাকে বলা হয় রিডেমপশন বা অবলুপ্তি। এভাবে নতুন ইউনিট সৃষ্টি ও অবলুপ্তির মাধ্যমে তহবিলের বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

নতুন এই তহবিলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ইউনিট সৃষ্টি ও অবলুপ্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণের সুবিধা থাকায় এ ধরনের তহবিলে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের ঝুঁকি কম থাকে। একইভাবে এতে অস্বাভাবিক মুনাফার সম্ভাবনাও কম। কারণ, ইটিএফের বাজারমূল্য ঐ তহবিলের এনএভির কাছাকাছিই থাকবে। তাই বাজারে এ ধরনের তহবিল যত বাড়বে, ততই বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শর্টসেল ব্যবস্থাটি প্রচলিত থাকলেও বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে এখন পর্যন্ত শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে শর্টসেলের আনুষ্ঠানিক প্রয়োগ নেই। শুধু ইটিএফের ক্ষেত্রে এই সুবিধা রাখা হচ্ছে।

ইটিএফও একধরনের মিউচুয়াল ফান্ড। তবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত মিউচুয়াল ফান্ডের চেয়ে এটির বৈশিষ্ট্যগত ভিন্নতা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো সাধারণত বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার বাজারে লেনদেন হয় না।

কিন্তু ইটিএফ বেমেয়াদি হলেও এটি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত ও লেনদেন হবে। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের অর্থের সর্বোচ্চ সুরক্ষা দিতে এই তহবিলের বড় অংশই বিনিয়োগ করা হবে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে।

এ তহবিলের সম্পদ ব্যবস্থাপক চাইলে তহবিলের পুরো অর্থই সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবে। প্রচলিত ধারার মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রচলিত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে তাদের তহবিলের একটি বড় অংশ অর্থবাজারের পাশাপাশি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে হয়।

বর্তমানে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত প্রচলিত ধারার মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর বেশির ভাগেরই বাজারমূল্য এনএভির চেয়ে অনেক কম। কোনো কোনোটির বাজারমূল্য এনএভির অর্ধেকের কম।

নিবন্ধন পাওয়া ইটিএফের সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান লঙ্কাবাংলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সায়মন ইবনে মুজিব জানান ‘আমরা এ বছরের মধ্যেই ইটিএফটিকে বাজারে আনার চেষ্টা করছি। এ ধরনের তহবিল বাজারে এলে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের ঝুঁকি কমবে।’

জানা গেছে, এলবি মাল্টি অ্যাসেট ইটিএফের ১০০ কোটি টাকার মধ্যে উদ্যোক্তা হিসেবে ১০ কোটি টাকা দেবে লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট। ২ কোটি টাকা দেবে সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান লঙ্কাবাংলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট। আর বাকি ৮৮ কোটি টাকা প্লেসমেন্ট ও প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে।

উপরিউক্ত লেখা গুলি পড়লে শর্টসেল’ কার্যক্রম বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান হবে আশা করছি।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।