জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর ফাঁকি রোধ এবং রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সহজ করতে করদাতাদের ব্যাংক হিসাবে সার্বক্ষণিক প্রবেশাধিকার চায়। সে জন্য হিসাবধারীর ব্যালেন্সসহ তিন ধরনের তথ্য চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে এনবিআর।
তবে ব্যাংকাররা বলছেন, এতে গোপনীয় ব্যাংক তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হবে। এ বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংকার্স বহিঃসাক্ষ্য আইন অনুসারে ব্যাংক গ্রাহকের কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। তবে শর্ত সাপেক্ষে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমসের অনুমোদিত ব্যক্তি বা আইনপ্রয়োগকারী যে কোনো তদন্ত সংস্থার অধীনে গ্রাহকের তথ্য জানা যায়।
বর্তমানে এনবিআর বা অন্য কোনো সংস্থার সরাসরি আমানতকারীর ব্যাংক হিসাবে সার্বক্ষণিক প্রবেশাধিকার নেই। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার তথ্য প্রয়োজন হলে ব্যাংকগুলো কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়ার পরেই তা সরবরাহ করে থাকে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, অনলাইন রিটার্নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যালান্স, সুদের আয় এবং উৎসে কর্তন করা করের রিয়েল-টাইম তথ্য জানার সুযোগ চায় এনবিআর। কর ফাঁকি রোধ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সহজ করতেই এনবিআর এই পদক্ষেপ নিতে চায়। তবে শঙ্কা রয়েছে, এতে গ্রাহক তথ্য বেহাত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকি বলছেন, আইন অনুযায়ী গ্রাহকের স্বার্থ বিবেচনায় এ বিষয়টি নিয়ে আমানতকারী, ব্যাংকসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টিআইএনধারীর মধ্যে রিটার্ন দাখিল করেছেন প্রায় ৪৫ লাখ করদাতা।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।