শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা রক্ষা এবং বাজারে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি এড়াতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিনিয়োগকারীদের তথ্য তলব না করার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে কারসাজি ও অনিয়ম শনাক্তে আরও বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকে বিএসইসির কমিশনার নাফিজ তারিক, নির্বাহী পরিচালক শেখ মাহবুবুর রহমান, ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, ডিএসইর বাজার তদারকি ও তদন্ত কার্যক্রমের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে তদন্ত প্রতিবেদন যথাযথ তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণনির্ভর না হলে তার ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি তদন্ত কার্যক্রমে বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তদন্তের নামে যেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেওয়া না হয় এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অযথা ভীতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
বৈঠকে গণহারে লেনদেন ও বিনিয়োগকারীদের তথ্য তলবের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিএসইসি চেয়ারম্যান পরামর্শ দেন, প্রথমে ডিএসইর সার্ভিল্যান্স সিস্টেম থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাই করতে হবে। এতে কারসাজির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলে কেবল তখনই সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ও তাঁর পোর্টফোলিও সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া যেতে পারে।
বিএসইসির এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো, একদিকে প্রকৃত অনিয়ম ও কারসাজি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় তথ্য তলবের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হওয়া এড়ানো।
শেয়ারবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর নজরদারি যেমন জরুরি, তেমনি তদন্তের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে বিএসইসির নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে অনিয়ম শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।