দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা এবং দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে চারটি বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা যৌথভাবে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পরিকল্পনায় মোট ২৫টি উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১৫ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে রোববার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করেন বিডা, বেজা ও মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং পিপিপির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী।
কর্মপরিকল্পনায় অবকাঠামো উন্নয়নে ১৩টি উদ্যোগ (প্রায় ৫০ শতাংশ), বিনিয়োগ সহায়তা জোরদারে ৭টি উদ্যোগ (৩০ শতাংশ) এবং বিনিয়োগ উন্নয়নে ৫টি উদ্যোগ (২০ শতাংশ) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে বন্দর আধুনিকায়ন, শিল্পপার্কে ‘রেডি-টু-ইউজ’ প্লট সম্প্রসারণ, ফ্রি ট্রেড জোন ও ডিফেন্স ইকোনমিক জোন স্থাপন এবং জ্বালানি খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে।
এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ করতে বিডা, বেজা, বেপজা, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও পিপিপিএ—এই পাঁচটি সংস্থাকে একীভূত করার উদ্যোগের কথাও পরিকল্পনায় রয়েছে। পাশাপাশি ‘বাংলাবিজ’ একক বিনিয়োগসেবা প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানো এবং চীনে বিডার প্রথম বিদেশি কার্যালয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিনিয়োগ উন্নয়ন খাতে শিল্প খাতের ম্যাপিং, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলো থেকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ এবং ব্লু ইকোনমি উন্নয়নের অংশ হিসেবে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা, মেরিকালচার ও রপ্তানিমুখী চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
আশিক চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাস্তবায়নমুখী সংস্কারের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ানোই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সহায়তা এবং বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।