পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি ফাইন ফুডস লিমিটেড ২০২৫-২৬ হিসাববছরে আর্থিক সূচকে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আলোচিত বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (EPS), শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (NAV), টার্নওভার এবং শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লোতে (NOCFPS) আগের বছরের তুলনায় উন্নতি হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪০.৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে।
আর্থিক সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি
কোম্পানির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ হিসাববছরে ফাইন ফুডসের টার্নওভার দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ১১ লাখ ৩০ হাজার ৪১৪ টাকা, যা আগের হিসাববছরে ছিল ১১ কোটি ৮৮ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯০ টাকা।
একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) বেড়ে হয়েছে ১১.৮১ টাকা। আগের বছর EPS ছিল ৪.১৮ টাকা।
এদিকে, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (NAV) আগের বছরের ১৪.৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ২৫.২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
অপারেটিং কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহেও উন্নতি হয়েছে। আলোচিত বছরে শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (NOCFPS) হয়েছে ১.৯০ টাকা, যা আগের বছর ছিল ১.৬৭ টাকা।
৪০.৫% নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ
আর্থিক সূচকে উন্নতির ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪০.৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে। তবে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ।
তবে পর্ষদের সুপারিশ কার্যকর হওয়ার জন্য কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) তা অনুমোদিত হতে হবে।
উল্লেখ্য কোম্পানিটি গতবছর ১৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।
আগামীকাল কোম্পানিটি নো লিমিট প্রাইজে লেনদেন হবে অর্থাৎ আগামীকাল কোম্পানিটির দাম বাড়া ও কমার ক্ষেত্রে কোন সার্কিট থাকবেনা।
AGM ২৬ ডিসেম্বর, রেকর্ড ডেট ১২ নভেম্বর
লভ্যাংশসহ অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য ফাইন ফুডসের ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) আগামী ২৬ ডিসেম্বর ২০২৬, শনিবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। সভাটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে।
এ সংক্রান্ত সুবিধা গ্রহণের জন্য কোম্পানির পক্ষ থেকে ১২ নভেম্বর ২০২৬ রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
কোম্পানির সচিব মো. সোহেল হোসেন স্বাক্ষরিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্যটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (DSE ও CSE) জানানো হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের নজরে আর্থিক সক্ষমতা
ফাইন ফুডসের সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে টার্নওভার, EPS ও NAV-সহ একাধিক সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। বিশেষ করে EPS বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহও ইতিবাচক রয়েছে।
তবে কোনো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু লভ্যাংশ বা একটি হিসাববছরের আর্থিক ফলাফল নয়, বরং কোম্পানির ভবিষ্যৎ আয় সক্ষমতা, নগদ প্রবাহ, ব্যবসার ধারাবাহিকতা, মূল্যায়ন, করপোরেট সুশাসন এবং প্রকাশিত অন্যান্য তথ্যও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থলিপির দৃষ্টিতে, ফাইন ফুডসের সর্বশেষ আর্থিক ফলাফল কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে উন্নতির একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছে। তবে এই তথ্যকে বিনিয়োগের সুপারিশ হিসেবে না দেখে বিনিয়োগকারীদের নিজেদের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই অধিক যুক্তিসংগত।