জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বিশ্বে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে বাংলাদেশ তাদের অন্যতম । প্রতিবছর বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় যে অর্থায়ন করা হয় তার সঙ্গে অন্তত আরও ২৯ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন ক্ষতিপূরণে। কিন্তু তা হচ্ছে না। দাতাসংস্থাগুলো ক্ষতি মোকাবিলায় যে অর্থায়ন করছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য।
সোমবার ‘নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স : মিডিয়া রিপোর্টিং’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এমনটা বলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দীন আহমেদ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এই কর্মশালায় সংস্থাটির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ছিল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।
ড. সালেহ উদ্দীন বলেন, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আমাদের অর্থায়নে ঘাটতি আছে। তবে সবচেয়ে বড় ঘাটতি সচেতনতার। যে কোনো দুর্যোগে কমিউনিটি রেসপন্স ইজ অ্যা বেস্ট রেসপন্স। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা কাজে লাগাতে বাংলাদেশ প্রথম কাতারে রয়েছে। তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় ২৯ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে এক-দেড় বিলিয়ন ডলার আনতে আমাদের জান বের হয়ে যায়। সামনে ৫ বিলিয়ন ডলারের জন্য আলোচনায় বসতে হবে। তবে প্রয়োজনীয় অর্থ না এলেও আমাদের নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করতে হবে। এজন্য সচেতনতা খুব বেশি প্রয়োজন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দুই ধরনের দুর্যোগের মোকাবিলা করতে হয়। একটি হলো প্রাকৃতিক, আরেকটি হলো মানবসৃষ্ট। দুর্যোগ মোকাবিলায় ৫টি পক্ষকে এক হতে হবে। বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, প্রাতিষ্ঠানিক সাপোর্ট, অর্থের জোগানদাতা এবং মানুষ তথা জনগণ। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ভালো ভূমিকা রাখতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে। আমাদের সতর্ক করতে হবে। জাপানের ছাত্ররা দুর্যোগ নিয়ে সচেতন। আমাদেরও সচেতন হতে হবে। দুর্যোগ নিয়ে শিশুদের ছোটবেলা থেকে সচেতন করতে হবে।
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। সিলেটে পানি বৃদ্ধি থেকে শুরু করে মাতৃমৃত্যু- এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েনি। কিন্তু এসব গল্প আমরা বৈশ্বিক পর্যায়ে তুলে ধরতে পারছি না। ফলে জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার কেস শক্তিশালী হচ্ছে না।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, ওয়ার্ল্ড ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স-এর তথ্য বলছে, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশের মধ্যে বাংলাদেশ নবম। আঠারো কোটি মানুষ ক্ষতির মুখে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের ১৭ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বাস্তুচ্যুত হতে পারে দুই কোটি মানুষ।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ আনার জন্য বাংলাদেশ নিয়মিত চেষ্টা করছে। কিন্তু এর জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ক্ষতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে। এখানে সাংবাদিকদের বড় ভূমিকা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষের জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সবকিছুই ঝুঁকিতে। এই বাস্তবতায় সাংবাদিকরা যদি শক্তিশালী কণ্ঠ তৈরি করেন, তাহলে আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে।
এ ছাড়া পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলু কাদের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো সাংবাদিকদের জলবায়ু অর্থায়নের জটিল কাঠামো বুঝতে সহায়তা করা, যাতে তারা রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এ কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৬০ সাংবাদিক অংশ নিচ্ছেন। তারা জলবায়ু অর্থায়ন, বৈশ্বিক তহবিলের কাঠামো, অর্থ আহরণের চ্যালেঞ্জ ও মিডিয়ার দায়িত্ব নিয়ে প্রশিক্ষণ পাবেন।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।