আবারও রাজধানীতে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। গত ৭/৮ দিন ধরে প্রতিদিনই অল্প অল্প করে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। দেশি ও আমদানি করা উভয় ধরনের পেঁয়াজের দামই বাজারে গত কয়েক দিনে বেড়েছে। নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশি পেঁয়াজের দাম ১০০টাকা ছুঁয়েছে। তবে এখনো যেসব বিক্রেতার কাছে পুরোনো দামে কেনা পেঁয়াজ আছে, তাঁরা দাম কিছুটা কম রাখছেন।
গত কয়েক দিনে নতুন করে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা সরবরাহ ঘাটতিকে দায়ী করছেন। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে রাজধানীতে পেঁয়াজের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।এইবার বেশিরভাগ আড়তদাররা জানাচ্ছেন বৃষ্টির কারণে রাজধানীতে পেঁয়াজের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে দাম বেড়েছে।
বিভিন্ন আড়তদারের মারফতে জানা গেল সরকার পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে কৃষকেরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন। বৃষ্টিতেও কৃষকেরা ঘর থেকে পেঁয়াজ বের করতে চান না। তাতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণে দাম বেড়েছে ৫৫০ টাকা।গত সপ্তাহে প্রতি মণ দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ২,৭৫০ টাকা। চলতি সপ্তাহে তা বেড়ে হয়েছে৩,৩০০ টাকা।
আজ শনিবার রাজধানীর মিরপুর ১১ নং পাইকারী দোকান ঘুরে ও আড়তদার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। তবে যাদের কাছে আগের পেঁয়াজ আছে তারা ৯৫ টাকাতে বিক্রি করছেন।গত এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে দেশি পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৯০ টাকা।
দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের অনেকেই দেশি পেঁয়াজ না কিনে আমদানি করা পেঁয়াজ কেনায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এসব বাজারে আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজের দামও গত ৭/৮দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৫ /১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।বিভিন্ন দোকানের মালিকরা জানিয়েছেন সরবরাহ সংকটে দেশি ও আমদানি করা উভয় রকমের পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।
উল্লেখ্য সরকার গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনটি পণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছিল, তার একটি পেঁয়াজ।তবে দাম বেঁধে দেওয়ার পরও সরকার–নির্ধারিত ৬৪ থেকে ৬৫ টাকায় কোথাও দেশি পেঁয়াজবিক্রি হচ্ছে না। উল্টো দাম বেঁধে দেওয়ার পর নতুন করে এখন আরেক দফা দাম বাড়ল।
দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকায় সরকার চলতি বছরের ৫ জুন ভারত থেকে পেঁয়াজআমদানির অনুমতি দেয়। আগস্টের শেষে দেশি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা কাছাকাছি পৌঁছেযাওয়ায় সরকার তখন ভারতের বাইরে আরও ৯টি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিদেয়।
আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর চলতি অর্থবছরে যত পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে, তারঅধিকাংশই ভারত থেকে এসেছে। তবে গত ২০ আগস্ট পেঁয়াজ রপ্তানিতে প্রতিবেশী দেশটি৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। তাতে দেশটি থেকে পেঁয়াজ আমদানি কমে যায়। তখনআমদানিকারকেরা বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজ আমদানির আগ্রহ দেখায়। সরকারও বাজারস্থিতিশীল রাখতে ভারত ছাড়া আরও ৯ দেশ থেকে আমদানির অনুমতি দেয়। এরপরওবাজারে নতুন করে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।
মিরপুর ১১ নং বাজারের একজন ইয়াং পাইকারী আড়তদার জানান সিন্ডিকেটের কারণে সব দ্রবমূল্যের দাম বাড়ছে।এটা কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণ হচ্ছেনা।আমরা কমে কিনতে না পারলে কিভাবে কমে বিক্রি করব বলেন।তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানিয়েছেন দাম বাড়াশুরু করলে আমজনতা প্রয়োজনের বেশী কিনে মজুদ করে রাখে যে কারণে একটি কৃত্রিম চাহিদা বাড়ে।এটাও দাম বাড়ার কারণ বলে তিনি জানান।তিনি বলেন আমজনতা দামবাড়লে ক্রয় কমিয়ে দিলে সিন্ডিকেটকারীদের টনক নড়ত।কিন্তু আমাদের দেশে দাম বাড়লে আমজনতা আরও বেশি করে ক্রয় করে মজুদ করে।