অর্থ লিপি

৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া ও একজন সফল ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন ডাঃ সুজয় মুখার্জি

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

ডাঃ সুজয় মুখার্জি ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়ালের একজন সফল সার্জন। তিনি জটিল সব মেডিকেল কেস নিয়ে কাজ করতে সুদক্ষ। তিনি ক্রিটিক্যাল ইস্যুগুলো নিয়ে কাজ করতে ভালবাসেন। তিনি তাঁর মেডিকেল বিভাগের ক্যান্সার রোগীদের কাছেও অন্যতম এক ভরসার প্রতীক।

একজন ওরাল এবং ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন হলেন একজন বিশেষজ্ঞ সার্জন যিনি সম্পূর্ণ ক্র্যানিওম্যাক্সিলোফেসিয়াল কমপ্লেক্সের চিকিৎসা করেন। মুখের শারীরবৃত্তীয় অঞ্চল, চোয়াল, মুখ-খুলি, মাথা এবং ঘাড়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কাঠাম জাতীয় এখতিয়ারের উপর নির্ভর করা বিষয়গুলো ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জানের জন্য বিশেষায়িত। মেডিসিন, ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জানের জন্য দন্ত চিকিৎসাসহ উভয় বিষয়ে ডিগ্রির প্রয়োজন হতে পারে।

ডাঃ মুখার্জি কলকাতার সিএমআরআই হাসপাতালের একজন অভিজ্ঞ কনসালট্যান্ট ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন। যুক্তরাজ্য এবং ভারতে তাঁর ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তিনি মুখ, চোয়াল এবং ঘাড়ের অস্ত্রোপচারে বিশেষজ্ঞ। দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, সংক্রামক রোগ এবং জটিল যত্নের অবস্থার ব্যবস্থাপনায় তাঁর দক্ষতা অন্তর্ভুক্ত। তিনি রোগী-কেন্দ্রিক পদ্ধতি এবং সহানুভূতিশীল যত্নের জন্য পরিচিত। ডাঃ মুখার্জি নাইটেঙ্গেল হসপিটালেও রোগীদের সেবা দিয়ে থাকেন।

ডাঃ সুজয় মুখার্জি দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল চিকিৎসা পরিস্থিতি পরিচালনার উপর মনোযোগ দিয়ে একজন দক্ষ ইন্টারনাল মেডিসিন চিকিৎসক হিসেবেও স্বীকৃত। তিনি ইন্টারনাল মেডিসিনে এমবিবিএস এবং এমডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং তার বিশেষত্বে উন্নত প্রশিক্ষণ এবং ফেলোশিপ অর্জন করেছেন, এ ছাড়াও তিনি আরও ডিগ্রি নিয়েছেন সুচিকিৎসা প্রদানের স্বার্থে।

ডাঃ সুজয় মুখার্জি কলকাতার একটি অভিজাত ডাক্তার পরিবারের সন্তান। তিনি ডাক্তারদের ডাক্তারখ্যাত কিংবদন্তি ডাক্তার অধ্যাপক সুকুমার মুখার্জির সুযোগ্য সন্তান। ডাক্তার অধ্যাপক সুকুমার মুখার্জির ইন্টারনাল মেডিসিন এবং রিউমাটোলজির একজন খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ডাঃ সুকুমার মুখার্জি তাঁর অনবদ্য অবদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক নানা সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া

বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের ব্যথায় আমরা সকলেই কখনও না কখনও ভুগেছি বা ভুগছি। কিন্তু ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়ার ব্যথা এতটাই অসহনীয়, যা আক্রান্তদের প্রতিদিনের জীবনযাপনে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করে। ব্যথার কারণে আক্রান্তরা আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে পড়েছেন, এমনও দেখা গিয়েছে।

কিন্তু ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়ার সফল চিকিৎসা ব্যাবস্থা রয়েছে। নিয়ম মেনে চিকিৎসা করালে ব্যথা বেদনা নিয়ন্ত্রণেও থাকে।

‘ট্রাইজেমিনাল’ হল মানুষের শরীরের একটি স্নায়ুর নাম। আমাদের মস্তিষ্ক থেকে মোটামুটি ১২টা ক্রেনিয়াল নার্ভ বেরোয়, প্রতিটির কাজ আলাদা। ট্রাইজেমিনাল নার্ভ হল পঞ্চম ক্রেনিয়াল নার্ভ। আর ‘নিউরালজিয়া’র অর্থ সোজা ভাষায় ‘স্নায়ুজনিত ব্যথা’। ট্রাইজেমিনাল নার্ভ শরীরের যে জায়গাগুলোয় অনুভূতির সঞ্চার ঘটায়— অর্থাৎ মুখ, চোখ, নাক, চিকবোন, জ-লাইন, খাবার চিবানোর জন্য যে মাংসপেশিগুলো আমরা ব্যবহার করি— এই জায়গাগুলোয় তাৎক্ষণিক এবং বিদ্যুতের তরঙ্গের মতো ব্যথাই হল এই অসুখের লক্ষণ। ব্যথা এমনই হয়, যেন সেই জায়গায় ছোৱা বিধিয়ে দিয়েছে কেউ! মুখের একদিকে ব্যথা হয়, অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রেই কেবল দু’দিকে হয়। এবং এটা একবার হয়ে থেমে যায় না, বার বার হয় । যখন হয়, তার স্থায়িত্ব হয় ১৫-২০ সেকেন্ড। সপ্তাহে দু’তিনবার থেকে, অত্যন্ত গুরুতর ক্ষেত্রে দিনে দু’তিনবার বা তার বেশিও হতে পারে।

কেমন সময়ে হয় এই ব্যথা? ধরুন যখন ব্রাশ করছেন, দাড়ি কাটছেন, চুল আঁচড়াচ্ছেন, মুখে জলের ঝাপটা দিচ্ছেন বা কিছু খেতে যাচ্ছেন, বিদ্যুতের মতো ব্যথা হয়ে আপনার কাজটা থামিয়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ফ্যান বা ব্লোয়ার জাতীয় জিনিসের হাওয়া, বা গাড়ির কাচ নামিয়েছেন, মুখে হাওয়া লাগল… এমন ছোঁয়া থেকেই ব্যথা হয়। মুখ অর্থাৎ ফেশিয়াল এরিয়ায় ট্রাইজেমিনাল নার্ভের উপস্থিতিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়— চোখ থেকে কপাল এবং মাথার দিকে (ভি ওয়ান), চোখ থেকে নাকের বেস অবধি (ভিটু) এবং চোয়ালের এলাকা, নীচের ঠোঁট পর্যন্ত (ভিথ্রি)। ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়ার ব্যথা এই তিনটির মধ্যে অন্তত একটি ভাগে এবং অনেক ক্ষেত্রে একাধিক ভাগেও হয়। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ভি টু এবং ভি থ্রি। রোজ বেঁচে থাকার জন্য খাওয়া, ব্রাশ করা, দাড়ি কামানো, চুল আঁচড়ানো, পাখার নীচে বসা— এই কাজগুলো তো করতেই হয়! তাৎক্ষণিক কিন্তু তীব্র এই ব্যথার জন্য আক্রান্তদের দৈনিক জীবনযাপন আলোচনা করছিলাম, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু ‘বেসিক ফাংশন’ করার সময় তীব্র ব্যথা অনুভূত হচ্ছে, অন্য সময় নয়।

অ্যাটিপিক্যাল ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া আক্রান্তদের কষ্ট আরও বেশি। এঁদের ক্ষেত্রে সারা ক্ষণই অল্প ব্যথা থাকে, ‘বেসিক ফাংশন’গুলো করতে গেলে ব্যথা বেড়ে যায়। যেহেতু ফেশিয়াল এরিয়ায় ব্যথা হয়, তাই বহু মানুষই প্রথমে ভাবেন, দাঁতের কোনও সমস্যা হচ্ছে। কনসালট্যান্ট, ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেশিয়াল সায়েন্স, ডা. সুজয় মুখোপাধ্যায় জানালেন, সাধারণত রোগীর ক্লিনিক্যাল হিস্ট্রি, তাঁর ব্যথার ধরন, কোন সময়ে ব্যথা হচ্ছে— এগুলো থেকেই চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন, তাঁর ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া হয়েছে কি না। হলে, তাঁরা পেশেন্টদের পেন স্পেশ্যালিস্টদের কাছে পাঠান।
কী কারণে হয়?

 ইডিয়োপ্যাথিক, অর্থাৎ কোনও কারণ ছাড়াই যেখানে নিউরালজিয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে জিনগত অস্বাভাবিকতার কারণে হয়, যেখানে ট্রাইজেমিনাল নার্ভ অতি সক্রিয় হয়। এদের ক্ষেত্রে মোটামুটি বয়ঃসন্ধি থেকেই এই অসুখ হতে পারে। তবে এই ধরনের আক্রান্তের সংখ্যা খুবই কম।

‘সুপিরিয়র সেরিবিউলার আর্টারি’ নামে একটি রক্তবাহ বা ব্লাড ভেসল রয়েছে। এই রক্তবাহ ট্রাইজেমিনাল নার্ভকে যদি ধাক্কা মারতে শুরু করে, তার থেকে ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া হতে পারে।

তথ্যসূত্র: সানন্দা ও গুগল

Author

  • মানুষের নির্দিষ্ট কোন পরিচয় নেই। মানুষের পরিচয় সময়ের সঙ্গে বদলে যায়৷ তাই চাপিয়ে দেওয়া কোনো পরিচয়ের প্রতি কবির বিশেষ আস্থা নেই। পরিচয়ের তকমা তাকে ক্লান্ত করে। তবে তিনি নিশ্চিত এই নরক ভূমির 'নরক নগরী 'র নরক সন্তান। এর পরও কিছু থাকতেই হয় জাগতিক নিয়মের দলিলে। কবির নাম টিএম মিলজার হোসেন, তিনি একজন মানুষ, একজন বাঙালি, বাংলাদেশী ও সর্বোপরি এই পৃথিবীর সন্তান। কবি, বাংলার শুদ্ধতম কবিখ্যাত জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত ধানসিঁড়ি নদীর তীরবর্তী জনপদে জন্ম নিয়েছেন৷ তার কবিতায় বারবার ফিরে আসে মানুষ, সময়, অস্তিত্ব এবং নরকসম বাস্তবতার অনুষঙ্গ। আপাতত তিনি কাব্যগ্রন্থ 'নরক নগরী'র রচয়িতা... তার প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম 'নরক ভূমি'।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।