শেয়ারবাজারে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় থাকা ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টেকনো ড্রাগস লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদনকারীদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (০২ জুলাই) কোম্পানিটির আইপিওর শেয়ারের এ বরাদ্দ দেওয়া হয়।কোম্পানিটির আইপিওতে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়ায় আনুপাতিক হারে শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হয়। আইপিওতে যাঁরা ১০ হাজার টাকার আবেদন করেছেন, তাঁরা ১১টি পাবেন শেয়ার। অপরদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একটু বেশি শেয়ার বরাদ্দ পাবেন কোম্পানিটির আইপিওতে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যাঁরা ১০ হাজার টাকার আবেদন করেছেন, তাঁরা পাবেন ২০টি শেয়ার ।
জানা গেছে টেকনো ড্রাগস সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য যে শেয়ার বরাদ্দ রেখেছিল, তার বিপরীতে প্রায় ২৫ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়ে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শর্ত অনুযায়ী, এটির শেয়ারে একজন বিনিয়োগকারী সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার শেয়ারের জন্য আবেদনের সুযোগ ছিল। ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ২৪ টাকা। সেই হিসাবে ১০ হাজার টাকার আবেদন যিনি করেছিলেন, তিনি মূলত ৪১৭টি শেয়ারের জন্য টাকা জমা দেন। তার বিপরীতে পাবেন মাত্র ২৬৪ টাকা সমমূল্যের ১১টি শেয়ার ।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আইপিওতে কোম্পানিটির শেয়ার পেতে দেশে বসবাসকারী ও প্রবাসী মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৯ জন বিনিয়োগকারী আবেদন করেন। এসব আবেদনকারী কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে সম্মিলিতভাবে জমা দিয়েছেন ২ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশে বসবাসকারী ১ লাখ ১০ হাজার ৬৩৬ জন বিনিয়োগকারী জমা দিয়েছেন ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকা আর ১ হাজার ৬০৩ জন প্রবাসী বাংলাদেশি জমা দিয়েছেন প্রায় ৭৬ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে টেকনো ড্রাগস শেয়ারবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। এই ১০০ কোটি টাকার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে ২৬ কোটি টাকা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৫৬ কোটি টাকা আর কোম্পানির কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৮ কোটি টাকার সমমূল্যের শেয়ার। তবে কোম্পানির কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দকৃত ১৮ কোটি টাকার শেয়ারের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৫ কোটি টাকার শেয়ারের। ফলে বাকি ১৩ কোটি টাকার সমমূল্যের শেয়ার নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বরাদ্দ করা হয়।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে দরপ্রস্তাবের মাধ্যমে কোম্পানিটির শেয়ারের বিক্রয়মূল্য বা অফার প্রাইস নির্ধারিত হয় ৩৪ টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ওই দামেই কোম্পানিটির শেয়ার কিনেছেন। তবে ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ২৪ টাকা।
কোম্পানিটি জানায়, আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থে কোম্পানিটি নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয়, বিএমআরই (নরসিংদী কারখানা), ভবন নির্মাণ (গাজীপুর কারখানা), আংশিক ঋণ পরিশোধ ও ইস্যু ব্যবস্থাপনা খরচ খাতে ব্যয় করবে।
কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেড ও ইবিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড।