যত আধুনিক হচ্ছে দেশ, দেশের দুর্নীতি ও চুরিও তত বেড়ে যাচ্ছে। আগে গরীব ও অশিক্ষিত মানুষ পেটের দায়ে চুরি করত, আর এখন চুরি করছে শিক্ষিত স্মার্ট ও বড় বড় পদে থাকা অফিসারেরা।
দুখঃজনক হলেও সত্য দেশে আইন থাকলেও তার সঠিক প্রয়োগ হচ্ছেনা। তাছাড়া মানুষের নৈতিকতার যখন অবক্ষয় হয় তখন আইন করে ও আটকানো যায়না অপরাধীদের।
শেয়ার বাজারে গত ১৬ বছর ধরে এত এত দুর্নীতি হয়েছে যে কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছিল। তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়া শেয়ার বাজারে যেন দুধভাত। বর্তমান সময়ে ও তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে এটা ভাবাই যায়না।
গতকাল বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাজারে লেনদেন শেষ হওয়ার পর ডিএসইর পক্ষ থেকে ক্যাটাগরি পরিবর্তন সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। কিন্তু বিষয়টি লেনদেন চলাকালেই ফাঁস হয়ে যায় বলে, সন্দেহ করছেন বাজার সংশ্লিষ্ট অনেকেই। সার্বিকভাবে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য পরিবর্তনের ধারা বিশ্লেষণ করে তারা এমন ধারণায় পৌঁছেছেন।
উল্লেখ্য, গতকাল বাজারে আলোচিত ২৭ কোম্পানির মধ্যে ২৬টির শেয়ারের মূল্য কমেছে। শুধু তাই নয়, দিনের শুরুতে বাজারে সূচকের উর্ধমুখী ধারায় লেনদেন চললেও এক পর্যায়ে তা নেতিবাচক ধারাতে চলে যায়। বেশকিছু কোম্পানিকে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হচ্ছে-এমন খবরের প্রভাবেই বাজারের চিত্র নেতিবাচক ধারাতে চলে যায়।
সাধারন হিসাব অনুযায়ী জেড ক্যাটাগরিতে দেয়া ২৭ কোম্পানির ক্যাটাগরি পরিবর্তনের প্রভাব আজ বৃহস্পতিবারের বাজারে দেখা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারির আগেই বাজারে তার তীব্র প্রভাব পড়ে। মূল্য সংবেদনশীল এমন তথ্য এভাবে ফাঁস হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে খুবই উদ্বেগজনক । এটি বড় ধরনের অপরাধ। তাই এর পেছনে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা জরুরী।
শেয়ার বাজারে সব ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রচার হবার আগেই বের হয়ে যাচ্ছে। কেন বারবার বিভিন্ন কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ হবার আগেই বেরিয়ে যাচ্ছে? তথ্য চলে যাচ্ছে বাজার কারসাজি করা লোকদের কাছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। এ থেকে কি পরিত্রানের কি উপায় নেই? বিভিন্ন কোম্পানির পর্ষদ সভা হবার আগেই জেনে যাচ্ছে পর্ষদ সভার কি ফলাফল, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
কোম্পানির প্রাইজ সেনসেটিভ নিউজ (মূল্য সংবেদনশীল তথ্য) অনেক আগেই প্রকাশিত হয়ে যাচ্ছে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ লোকজনের ও অডিট ফার্মের লোকদের মাধ্যমে। এর সঙ্গে কোম্পানির পরিচালক, কর্মকর্তারাও জড়িত। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য কখনো কখনো রেগুলেটরি বোর্ডের প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য পাচার হচ্ছে।
আনুষ্ঠানিক ভাবে তথ্য প্রকাশ না করে, তারা নিজেরা ও এক শ্রেনির বড় বিনিয়োগকারীদের সাহায্যে শেয়ারের ক্রয়ের চাপে, দাম বাড়িয়ে তুলছেন। এতে কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা ও কিছু ব্যাক্তি লাভবান হলেও লোকসান গুনছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। একটি কোম্পানির ভালো নিউজ আনুষ্ঠানিক ভাবে আসার আগেই, খবরটি একটি পক্ষ জেনে দাম বাড়িয়ে দেয়।
আনুষ্ঠানিক ভাবে ভালো নিউজ আসার পরে খবর দেখে, কিছু লোক তাতে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। নিজেদের মত করে প্রাইজ সেনসেটিভ নিউজ প্রকাশ করায় বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীগন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এছাড়া খবর আসছে, গুজব ছড়িয়ে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করেন না অনেক কোম্পানি। অনেক ক্ষেত্রে দেরি করে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা হয়। আবার মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করার অনেক আগেই জানতে পারেন কিছু বিনিয়োগকারী। এসব ক্ষেত্রে কোম্পানির লোকজন এমনকি পরিচালকরাও জড়িত থাকেন।
একটি কোম্পানির কি লভ্যাংশ বা ইপিএস আসবে এবং কোন উৎপাদন খবর, এগ্রিমেন্ট খবর সহ কোম্পানির বিভিন্ন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য পর্ষদ সভা হবার আগেই লোকজন জেনে যাচ্ছে। যে কারণে একটি পক্ষ লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমজনতা বিনিয়োগকারী। যথাযথ কর্তৃপক্ষেরই এই বিষয়টি কড়া নজরদারিতে নেয়া জরুরী।
কিভাবে মূল্য সংবেদনশীল খবরগুলো প্রচার পাচ্ছে? কারা জড়িত এর সাথে। এটি রোধ করতে না পারলে পিছিয়ে থাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে একটি প্রবাদ আছে Buy the Rumors, sell the News কিন্তু কথা হলো এই Rumors টা বের হয় কিভাবে? এটাকে রোধ করা জরুরী। উন্নত দেশে দেখা যায় একটি কোম্পানির ভালো খবরে দাম বাড়ে আর আমাদের বাজারে ভালো খবরে দাম পরে যায়, ভাবা যায় বিষয়টি!
যথাযথ কর্তৃপক্ষেরই এই বিষয়টি কড়া নজরদারিতে নেয়া জরুরী। বাজারে দাম বাড়ে কমে তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ নেই, কিন্তু নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে যাতে ভবিষ্যতে কোন কোম্পানির এমন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য বের হতে না পারে। সে ব্যাপারে আশু উদ্যোগ গ্রহণ যেন করে, এই দাবি সকল সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টি আকর্ষণ করছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে যাতে প্রাইজ সেনসেটিভ বা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আগেই বের না হতে পারে, এজন্যে কড়া আইনের বিধান রাখা মহা জরুরী। যে সব কোম্পানির তথ্য আগে বের হবে শাস্তির আওতাধীন করা উচিৎ শেয়ার বাজারের বৃহত্তর স্বার্থে।