অর্থ লিপি

২৫ মে ২০২৬ সোমবার ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কি কোরবানি দিতে পারবেন? যা বলছে ইসলামি শরিয়ত

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

পবিত্র ঈদুল আজহার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানি। আত্মত্যাগ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মহান শিক্ষা বহন করে এই ইবাদত। হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তার প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর অনন্য ত্যাগের স্মরণে মুসলমানরা প্রতি বছর কোরবানি আদায় করে থাকেন।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কি কোরবানি দিতে পারবেন?

কোরবানির জন্য কী পরিমাণ সম্পদ থাকা জরুরি

ফিকহের বিধান অনুযায়ী, কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকতে হবে। যাকাতের মতো কোরবানির ক্ষেত্রে এক বছর সম্পদ ধরে রাখা শর্ত নয়। বরং জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের মধ্যে কোনো সময় যদি কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তাহলেই তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।

এ বিষয়ে ইসলামী ফিকহের গ্রন্থ আহসানুল ফাতাওয়া (৭/৫০৬)-এ বলা হয়েছে, কোরবানির নিসাবের ক্ষেত্রে সম্পদের ওপর বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়।

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিধান কী

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ঋণগ্রস্ত হন এবং সেই ঋণ পরিশোধ করার পর তার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না।

অন্যদিকে, ঋণ পরিশোধের পরও যদি তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থেকে যায়, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।

ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ বাদায়েউস সানায়ে (৪/১৯৬) ও ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৫/২৯২)-তেও একই বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।

কোরবানির নিসাবের ক্ষেত্রে কোন সম্পদ হিসাব করা হয়

কোরবানির নিসাব নির্ধারণে যেসব সম্পদ হিসাবযোগ্য, সেগুলো হলো:

  • নগদ টাকা-পয়সা
  • সোনা-রুপা ও অলংকার
  • ব্যবসায়িক পণ্য
  • প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি
  • অতিরিক্ত বাড়ি বা গাড়ি
  • অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র

তবে বসবাসের জন্য ব্যবহৃত বাড়ি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও দৈনন্দিন খোরাকির সামগ্রী নিসাবের আওতায় গণনা করা হয় না।

সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ

ইসলাম সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থার শিক্ষা দেয়। তাই কোরবানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায়ের ক্ষেত্রে নিজের আর্থিক সক্ষমতা ও দায়-দায়িত্ব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।