দেশের উভয় শেয়ার বাজারে টানা সূচকের পতনে দিশেহারা হয়ে পরেছে দেশের আপামর বিনিয়োগকারীরা। কোন কিছুতেই থামছে না বাজার পতন।
বাজার বিশ্লেষকরাও খুঁজে পাচ্ছেন না বাজার কেন এত পতন হচ্ছে। বাজার পতনে গন্তব্য কতদূর জানেনা কেউ।
দেশ- বিদেশের যে কোন নেগেটিভ খবরে শেয়ার বাজারে পতন হচ্ছে। যেন সারা বিশ্বের সাথে দেশের শেয়ার বাজারের সম্পর্ক রয়েছে।
চলতি মাসে সূচকের অব্যাহত দরপতনে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পরেছেন। বাজার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া সত্তেও কিছুতেই যেন কিছুই হচ্ছেনা।
চলতি সপ্তাহে বেশ কয়েকটি হাউজের অফিস ঘুরে দেখা গেল হাউজের অফিসারদের মধ্যে কোন প্রান চাঞ্চল্যতা নেই। বেশ কয়েকজন জন বিনিয়োগকারীর সাথে বাজার নিয়ে সার্বিক অবস্থা জানতে চাইলে তারা কিছুই বলতে চাচ্ছেন না। তাদের সবার এক কথা দেশের সবকিছু ভালো ভাবে চললেও, কেন শেয়ার বাজার এমন ভাবে মুখ থুবড়ে পরে আছে।
দেশের শেয়ার বাজার কি সরকারের উন্নয়ন এর মধ্যে পরে না? কেন এই সেক্টর অবহেলিত? কেন এই সেক্টর নিয়ে সরকারের লোকজন কথা বলতে চায় না। দেশের সব কিছুর উন্নয়ন হলেও শেয়ার বাজারের উন্নয়ন কেন হচ্ছেনা। ফাইন্যান্সের শিক্ষক একজন বিনিয়োগকারী জানান, দেশের শেয়ার বাজার যতদিন অব্দি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখতে পারবে না, ততোদিন আমাদের এমন ভাবে আহাজারি করতে হবে।
এই বিষয়টি নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে এমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তার সাথে টেলিফোনে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে জানান, আসলে শেয়ার বাজারের স্বাভাবিকতা নেই বহুদিন যাবৎ। তাছাড়া ২০১০ পরবর্তী বাজারের অস্থিরতার কারণে শেয়ার বাজার নিয়ে রাজনৈতিক লোকজন দূরে থাকেন। ২০১০ সালে বহু রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অনেক টাকা লস করেছেন, তারপর থেকে শেয়ার বাজারে তেমন কোন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ শেয়ার ব্যবসার সাথে নেই। তাদের শেয়ার বাজার নিয়ে ধারণা কম, যে কারণে দেশের ভিতরে সব সেক্টর নিয়ে আলোচনা হলেও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে শেয়ার বাজার নিয়ে কোন আলাপ আলোচনা হচ্ছেনা।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন বর্তমান ইনটেরিম সরকার ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন আছেন। এভাবে কাজ করলে এবং নির্বাচন হলে ভবিষ্যতে বাজার স্বাভাবিক হবে, বাজারে প্রানচানঞ্চলতা ফিরে আসবে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার (২৭ মে) সপ্তাহের চতুর্থ কার্য দিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। গতদিনের তুলনায় আজ সূচক ও লেনদেন উভয়ই কমেছে ।
আজ গতদিনের চেয়ে ৯.৮৭ কোটি টাকার কম লেনদেন হয়েছে।
আজ লেনদেনের ৩০ মিনিটের মাথায় ডিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের চেয়ে ২৪ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন হয়। কিন্তু তারপরে বাজারে সেল প্রেসার কিছুটা বেড়ে যায়। ফলে সূচক ক্রমাগত নিচে নামতে থাকে এবং শেষ বেলায় সূচক ৪১ পয়েন্ট কমে লেনদেন শেষ হয়।
আজ ডিএসইর লেনদেন শেষে প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ৪১.২৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৬৭৮ পয়েন্টে। অন্য সুচকগুলোর মাঝে, শরিয়াহ সূচক ‘ডিএসইএস’ ৮.৮৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪ পয়েন্টে আর ‘ডিএস৩০’ ১৭.৭৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭২৪ পয়েন্টে।
আজ ডিএসইতে মোট ২৭২ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিলো ২৮২ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার। আজ গতদিনের চেয়ে ৯.৮৭ কোটি টাকার কম লেনদেন হয়েছে।
আজ লেনদেন হওয়া ৩৯২ টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ৮৩ টির, কমেছে ২৩৭ টির অপরদিকে অপরিবর্তীত রয়েছে ৭২ টি কোম্পানির শেয়ারদর।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।