অর্থ লিপি

১৫ জুন ২০২৬ সোমবার ১ আষাঢ় ১৪৩৩

আজ কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

আজ ১২ ভাদ্র জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালে বাংলা ১২ ভাদ্র তারিখে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবি।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।তাঁর ডাক নাম ছিলদুখু মিয়া পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ মাতা জাহেদা খাতুন।

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগরাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।

নজরুল কখনো মাথানত করেননি লোভলালসা, খ্যাতি অর্থবিত্তের বৈভবের কাছে।চিরউন্নত মম শিরবলে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন শোষিত বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য।মানবতার মুক্তির পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, কূপমন্ডুকতার বিরুদ্ধেওছিলেন সোচ্চার। মুক্তবুদ্ধি চিন্তার পক্ষে কলম ধরেছেন নির্ভীক চিত্তে।

বাংলা সাহিত্যে তার অবদান অসামান্য। অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী সাম্যের কবি আছেন কোটি কোটি বাঙালির হৃদয়ে। কবির জীবদ্দশায় তিনি সর্বদা হিন্দুমুসলমান মিলনের গান গেয়েছেন। তার ইসলামি সংগীত গজল যেমন হূদয় ছুঁয়ে দেয়, পাশাপাশি তিনি সিদ্ধহস্ত ছিলেন শ্যামাসংগীত রচনার ক্ষেত্রেও।

বিদ্রোহী কবির মর্যাদা পেলেও তিনি ছিলেন মূলত প্রেমের কবি। কাজী নজরুল ইসলামই দেশের সমাজচেতনা রাজনৈতিক জগতের সর্বোত্তম কবি, যিনি গণমানুষের সঙ্গে সাহিত্যের যোগসূত্র।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার গান কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস। কাজী নজরুল ইসলাম নিজ গ্রামে মসজিদ স্কুলে অধ্যয়ন করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি কবিতা গান লেখাশুরু করেন। নিজে বিভিন্ন আসরে গান পরিবেশন করেন। তার কবিতা ক্রমে ব্রিটিশদের শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদী শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তার বিদ্রোহী কবিতায় সরাসরি ব্রিটিশ রাজকে সমালোচনা করা হয়।

দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত হয়েও কবি কখনো আপস করেননি। মাথানত করেননি বিত্ত বৈভবের কাছে। সংগ্রাম করে গেছেন শোষিতবঞ্চিতদের মুক্তির জন্য।

ছোটগল্প, উপন্যাস, গান, নাটক লিখলেও মূলত কবি হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত। আজীবন বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গি আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার উচ্চকণ্ঠের কারণে তিনি ভূষিতহনবিদ্রোহী কবিহিসেবে।

তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অগ্নিবীণা, সঞ্চিতা, চক্রবাক, প্রলয় শিখা, মরু ভাস্কর, দোলনচাঁপা, বিষের বাঁশি, ভাঙ্গার গান, সাম্যবাদী, পুবের হাওয়া, ব্যথার দান, রিক্তের বেদন, বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা, কুহেলিকা ইত্যাদি। এছাড়া প্রায় হাজার গান রচনা করেন কাজীনজরুল। তার গানের বাণী হয়ে ওঠে মানবতাবাদ সাম্যবাদের পক্ষে শক্তিশালী হাতিয়ার।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান কবিকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করেনএবং ধানমন্ডিতে কবির জন্য একটি বাড়ি প্রদান করেন।

জাতীয় কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। সেখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।