অর্থ লিপি

১ মে ২০২৬ শুক্রবার ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

১২৭ বছরের শিবানন্দ এলেন জন্মভূমি বাংলাদেশে, এই বয়সেও দিব্যি হেঁটে বেড়ান

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

১২৭ বছর বয়সী ভারতীয় সন্ন্যাসী স্বামী শিবানন্দ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর ঠাকুরবাণীতে এসেছেন। তাকে বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়স্ক সুস্থ লোক। ১২৭ বছর বয়সেও সুঠাম দেহে দিব্যি হেঁটে বেড়ান। শুনতে অবাক লাগলেও স্বামী শিবানন্দ এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। মনোরোগে পিএইচডি করা ব্যক্তি স্বামী শিবানন্দর নামটি এখন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মুখে মুখে।

মানুষের গড় আয়ুকে পাশ কাটিয়ে দেখিয়ে সুস্থভাবে বেঁচে আছেন ১২৭ বছর বয়সেও। তাকে ভক্তি করে অনেকেই ডাকেন, ‘বাবা শিবানন্দ’ আবার কেউ ডাকেন, ‘যোগগুরু’, ‘যোগদা’ বলে। শিবানন্দের জন্ম ১৮৯৬ সালের ৮ই আগস্ট হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার হরিতলা গ্রামে। জন্মতারিখ অনুযায়ী তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের চেয়েও পাঁচ মাসের বড়। আরও অবাক ব্যাপার তিনি দেখেছেন ৩ শতক।

এই প্রবীণ বয়সে এসে তিনি ভূষিত হয়েছেন বিরল সম্মানে। গত বছর ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ লাভ করেন তিনি। তাকে বলা হয়েছে বিশ্বের ‘প্রবীণতম’ যোগসাধক। নিজের বয়সের সার্টিফিকেটের প্রমাণ হিসেবে রয়েছে ভারতীয় পাসপোর্ট। জানালেন, তার জাতীয় পরিচয়পত্র (ভারতীয়), পাসপোর্টসহ সব বৈধ পরিচয় পত্রতেই বয়সের প্রমাণ রয়েছে। সুস্থ জীবন ও দীর্ঘ আয়ুর রহস্য হিসেবে জানালেন নিয়মিত যোগব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাসের কথা। অন্ন, রুটি আর সিদ্ধ সবজি খেয়ে বেঁচে আছে তিনি। নিয়মিত ডায়েটের পাশাপাশি তেল, চর্বি এবং মিষ্টান্ন জাতীয় খাবার, ফল-দুধ বর্জন করেন তিনি।

স্বামী শিবানন্দ জানান, তার শরীরে কোনও রোগ নেই। কামনা-বাসনা নেই। দুঃখ-কষ্ট, চিন্তা ও সমস্যা নেই। অর্থ কিংবা দান গ্রহণ করেন না তিনি। রাত ৩টায় ঘুম থেকে উঠে যোগব্যায়াম করেন। আধ্যাত্মিক সাধনা বাড়াতে মন্ত্র জপ করেন। বিষয়টি যত না চমকপ্রদ, এর চেয়েও বেশি চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছে যেদিন তার হাতে পদকটি তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে নাম ঘোষণা হতেই খালি পায়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকে এগিয়ে যান শিবানন্দ। পরনে সাদা ধুতি এবং কুর্তা। একেবারেই সাদাসিধে এক বৃদ্ধ। অথচ পদক্ষেপে তার ছাপ নেই। তিনি এগিয়ে এসে হাঁটু গেড়ে বসে প্রণাম করেন নরেন্দ্র মোদীকে।

এ সময় মোদীকেও মাথা নোয়াতে দেখা যায়। এরপর রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকেও নতজানু হয়ে প্রণাম করেন এই যোগসাধক। রাষ্ট্রপতিও আসন ছেড়ে এসে তাকে ওঠে দাঁড়াতে সহায়তা করেন। এই ঘটনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রায় সবাই চেয়ার ছেড়ে ওঠে দাঁড়িয়ে শিবানন্দকে শ্রদ্ধা জানান। এরপর তিনি মঞ্চের মাঝখানে যান। সেখানেও একইভাবে হাঁটু গেড়ে বসে তিনি সবাইকে প্রণাম করেন। যোগশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য পদ্মশ্রী পুরস্কার এদিন তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় তার অনাড়ম্বর জীবনশৈলী নজর কাড়ে সবার।

শিবানন্দের জীবনী থেকে জানা যায়, তার বাবা শ্রীনাথ গোস্বামী, মা ভগবতী দেবী মুষ্টিভিক্ষা করে একসময় জীবন ধারণ করতেন। চরম দারিদ্র্যের কারণে ৪ বছর বয়সে শিবানন্দকে বাবা-মা নবদ্বীপের বিখ্যাত সন্ন্যাসী স্বামী ওঙ্কারানন্দের কাছে দিয়ে দেন। দুই বছর পর ৬ বছর বয়সে সন্ন্যাসীর সঙ্গে বাড়ি ফিরে এসে তিনি জানতে পারেন তার দিদি না খেতে পেয়ে মারা গেছেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বাড়ি ফিরে আসার ৭ দিন পর মা-বাবা একই দিনে মারা যান।

পরে তিনি স্বামী ওঙ্কারানন্দের সঙ্গে ভারতের নবদ্বীপ চলে যান। তখন ১৯০১ সাল। সেখানে শুরু হয় পড়াশোনা। পরে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। ১৯২৫ সালে তিনি বিলেত যান উচ্চশিক্ষার জন্য। সেখান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯২৫ সালে শিবানন্দ বিশ্ব ভ্রমণ শুরু করেন। টানা ৩৪ বছর তিনি বিদেশে ঘুরেছেন। ১৯৫৯ সালে গুরুর নির্দেশে কাশীধামে ফিরে সাধনজগতে ডুব দেন। যোগ সাধনার পাশাপাশি চালিয়ে যেতে থাকেন নিঃস্বার্থ সেবামূলক কাজ।

দীর্ঘ অধ্যাবসায় ও আত্মত্যাগে ভারতের যোগশাস্ত্রকে বিশেষ মাত্রায় পৌঁছে দেন তিনি। নিয়মিত শরীরচর্চা ও অনুশীলনের মধ্য দিয়ে অর্জন করেন সুস্বাস্থ্য।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী শিবানন্দের এই সাফল্যের রহস্য সহজ জীবন যাপন। তেলমুক্ত সেদ্ধ খাদ্য ছাড়া তিনি কিছু খান না। মানবতার জন্য তার নিজস্ব উপায় রয়েছে। নিঃস্বার্থ সেবা তার প্রধান ব্রত। প্রচার তিনি চান না। জীবনকে নৈতিক শিক্ষা হিসেবে তিনি প্রদর্শন করেন। প্রতিদিন ব্রহ্ম মুহূর্তে রাত ৩টার সময় তিনি শয্যা ত্যাগ করে এক ঘণ্টা যোগব্যায়াম করেন। তারপর ঈশ্বরের আরাধনা দিয়ে দিন শুরু হয় তার।

স্বামী শিবানন্দ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সম্পূর্ণরূপে বিশুদ্ধ ও নিরামিষ খাবার খাওয়ার জন্যই তিনি সুস্থ আছেন। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী বর্তমান বিশ্বের প্রবীণতম ব্যক্তি চিতেতসু ওয়াতানাবে হলেও শিবানন্দ হচ্ছেন বিশ্বের প্রবীণতম সম্পূর্ণ সুস্থ ব্যক্তি।

গত ৯ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আসেন ভারতের ধর্মগুরু স্বামী শিবানন্দ। তিনি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে যান। পরে চলে আসেন হবিগঞ্জে। বর্তমানে নবীগঞ্জের দিনারপুর অঞ্চলের শতক গ্রামে ঠাকুরবাণী আশ্রমে অবস্থান করছেন। আগামীকাল সোমবার (১৯শে ফেব্রুয়ারি) ভারতে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।