দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর হিসাব বছর সাধারণত ডিসেম্বর ও জুন মাসে শেষ হয়। ডিসেম্বর ও জুন হিসাব বছর শেষে কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করে। চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের বার্ষিক কিংবা অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ ঘোষণার আগ পর্যন্ত আর কোনো কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হবেনা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ই ফেব্রুয়ারী ) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে এ–সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোম্পানি গুলির জন্যে বেশ কিছু নতুন শর্তারোপ দেয়া হয়েছে।
জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনাগুলো হল
সর্বশেষ ঘোষিত লভ্যাংশের পর থেকে কিংবা তালিকা ভুক্তির পর থেকে টানা দুই বছর লভ্যাংশ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হলে সেই কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পাঠানো হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) না করলে সেই কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পাঠানো হবে। তবে কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া কিংবা দৈব দুর্ঘটনার কারণে (AGM) আয়োজন করতে না পারলে, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
যে কোন কোম্পানির উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম ন্যূনতম ছয় মাসের জন্য বন্ধ থাকলে সেক্ষেত্রে সেই কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পাঠানো হবে।
তবে যদি পুনঃসংস্কার কিংবা বিএমআরই (ভারসাম্য, আধুনিকীকরণ, পুনর্বাসন ওসম্প্রসারণ) কিংবা দৈব দুর্ঘটনাজনিত কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকলে সেক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না।
কোন কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের তুলনায় পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ বেশি হলেসেক্ষেত্রে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পাঠানো হবে। তবে যেসব কোম্পানি পরিশোধিত মূলধনের চেয়েপুঞ্জীভূত লোকসান বেশি থাকা সত্ত্বেও সর্বশেষ পঞ্জিকাবর্ষে তার চলতি মুনাফা থেকে অন্তর্বর্তীকালীনসহ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে এবং নিয়মিত এজিএম আয়োজন করেছে সেক্ষেত্রে সেই কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পাঠানো হবে না।
যেকোনো ধরনের সিকিউরিটিজ আইন, বিধিমালা, প্রবিধান, প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনাঅম্যান্য এবং স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্তি প্রবিধানের শর্ত ধারাবাহিক লঙ্ঘনের কারণে বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে কোনো কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পাঠানো যাবে।
তবে এক্ষেত্রে আইনি লঙ্ঘনের বিষয়টি স্টক এক্সচেঞ্জ নিয়মিত পর্যালোচনা করবে এবং বিএসইসির পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করবে।
ব্যাংক, বীমা ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতিত অন্য যেকোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির পর্ষদ সময়ে সময়ে বিনিয়োগকারীদের অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ পরিশোধ করতে পারে। এ ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশকে কোম্পানির শ্রেণীকরণ সমন্বয় বা স্থানান্তরের জন্য বিবেচনা করা হবে।
ব্যাংক, বীমা ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাদে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা বা পরিচালকরা বিএসইসির পূর্বানুমোদন ছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কিংবা স্টক এক্সচেঞ্জের বাইরে কোনো মাধ্যমেই তাদের শেয়ার কেনাবেচা কিংবাস্থানান্তর করতে পারবেন না।
শেয়ার ক্লিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সেটলমেন্ট অব ট্রানজেকশন্স বিধিমালার৫(২) বিধির ওপর বিএসইসির এ নির্দেশনা প্রাধান্য পাবে। এক্ষেত্রে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা কোম্পানির শেয়ার ক্লিয়ারিং হবে যেদিন লেনদেন হবে তার তিনদিন পরে (টি+৩)।
চলতি বছরে এখন থেকে যেসব কোম্পানির হিসাব বছর শেষ হবে সেগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার সিদ্ধান্ত আসার পর থেকে নতুন আদেশ অনুসারে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে শ্রেণী বিন্যাস করা হবে। ফলে লভ্যাংশ ঘোষণার আগ পর্যন্ত নতুন করে আর কোনো কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাচ্ছে না।
নতুন নির্দেশনায় জেড ক্যাটাগরিতে থাকা না থাকার বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেযে অভিযোগ ও হতাশা ছিল সেটি কাটিয়ে উঠেছে। সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে বাজারে যে অস্থিরতা ছিল জেড ক্যাটাগরিতে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে সেটার অবসান হল।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।