ওপেক পূর্বাভাস দিয়েছে আগামী দুই বছরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির চাহিদা তুলনামূলক বাড়তে পারে। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শীত বাড়ায় অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন কিছুটা ব্যহত হয়েছে। ফলে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ই জানুয়ারি) জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ৭৮ ডলারের উপরে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ দিন লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের ২৮ সেন্ট বেড়ে প্রতি ব্যারেল দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ১৬ ডলারে। এছাড়া ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৩৪ সেন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৭২ দশমিক ৯০ ডলারে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো ‘দ্য অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম কান্ট্রিস’ যা ওপেক নামে পরিচিত। আবার ওপেকের বাইরে অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশ ও ওপেক সদস্যদের একত্রে ওপেক প্লাস নামে অভিহিত করা হয়।
ওপেক তাদের মাসিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দৈনিক চাহিদা ১ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ব্যারেল বেড়ে দাঁড়াবে ১০৬ দশমিক ২১ মিলিয়ন ব্যারেলে। যেখানে চলতি বছর দৈনিক চাহিদা ২ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ব্যারেল বাড়বে বলে মনে করে ওপেক। গত বছরের ডিসেম্বরেও একই পূর্বাভাস দিয়েছিল তারা।
অপরদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী রাজ্য নর্থ ডাকোটার তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে নেমে যাওয়ায় সেখানের তেলের উৎপাদন দৈনিক ৬ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৭ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। যা তাদের সাধারণ সময়ের উৎপাদনের অর্ধেকেরও কম বলে জানিয়েছে রাজ্যটি।
গতকাল বুধবার (১৭ই জানুয়ারি) আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যানের বরাতে বাজার সূত্রে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দেশীয় অপরিশোধিত মজুত ৪ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল বেড়েছে।
ক্রমবর্ধমান সরবরাহ এবং ধীরগতিতে চাহিদা বাড়ার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও চলতি বছর তেলের বাজার একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে থাকবে বলে মনে করেন ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল।
এদিকে লোহিত সাগর রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলোয় হাউথি বিদ্রোহী গোষ্ঠির আক্রমণের কারণে অনেক জাহাজ ও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনকারী কোম্পানি বাধ্য আফ্রিকার সুদূর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত কেপ অব গুড হোপ রুট দিয়ে তাদের জাহাজ ঘুরিয়ে পরিবহন করছে। এতে বাড়ছে পরিবহনের সময় এবং খরচ।