সারা দেশজুড়ে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পর এখন পাবনার পাইকারি ও খুচরা বাজারে কমতে শুরু করেছে দাম।৫ দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম কমেছে ৫৫-৬০ টাকা। মূলত দেশীয় (মুড়িকাটা) নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। এছাড়া অস্বাভাবিক দাম হঠাৎ বৃদ্ধির কারণে পেঁয়াজের বাজার থেকে ক্রেতারা একরকম মুখ ফিরিয়ে নেন। পেঁয়াজ বিক্রি কমে যাওয়ার কারণেও ব্যবসায়ীরাও দাম কমাতে বাধ্য হন।
উল্লেখ্য ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর গত শুক্রবার রাত থেকেই বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দাম। শুক্রবার সারা দিন পাবনার পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ১০০-১১০ টাকা, সেখানে পরের দিন শনিবার হয়ে যায় ১৯০-২০০ টাকা। আর খুচরা বাজারে শুক্রবার প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ১২০-১৩০ টাকা, সেখানে শনিবার হয় ২৩০-২৪০ টাকা। এরপর একেক উপজেলার বাজারে বিক্রেতারা পেঁয়াজের একেক রকম দামে বিক্রি করতে থাকেন। এখন উঠতে শুরু করেছে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ। পাঁচ দিন পর পাবনায় অস্থির পেঁয়াজের বাজারের ঝাঁজ তাই কিছুটা কমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, মুড়িকাটা পেঁয়াজ ভালোভাবে বাজারে আসলে দাম আরো কমে যাবে।
পাবনার সদর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের একজন পেঁয়াজচাষি বলেন, দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছি। বৃহস্পতিবার বাজারে পেঁয়াজ এনেছিলাম। এদিন সবচেয়ে ভালো দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ৪,৪০০ টাকা থেকে ৪,৫০০ টাকা মণ দরে। আর মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৩ হাজার থেকে ৩,২০০ টাকা মণে বিক্রি করেছি। সুজানগরের অন্য একজন ব্যবসায়ী বলেন, নতুন পেঁয়াজ ৩,১০০ থেকে ৩,২০০ টাকা আর পুরাতন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪,৭০০ থেকে ৪,৮০০ টাকা মণ দরে। এখন প্রতিদিনই পেঁয়াজ আসছে। দুই-এক দিনের মধ্যে আরো দাম কমে যাবে।
এদিকে, দেশি নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় তার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। বর্তমানে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১০০ টাকা ও দেশি পুরাতন পেঁয়াজ ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।পাবনার সাঁথিয়ার চিনাখড়া বাজারে আসা ঢাকার পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলেন, শনিবার দেশি ভালো মানের পুরান পেঁয়াজ কিনেছিলেন ৮ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা মণ দরে। আর মঙ্গলবার পুরান পেঁয়াজ কিনছেন সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকায়। আর নতুন ভালো মানের পেঁয়াজ কিনেছেন ৩,৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা মণ দরে। তারা বললেন, পেঁয়াজের দর পতনে তাদের এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে।
পাবনার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, এ বছর পাবনায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে। উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৮ টন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলা হয়েছে ৫ হাজার ৬৯৬ টন। আশা করছি, উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, এখনো কৃষকের ঘরে পুরাতন দেশি পেঁয়াজ মজুত আছে ৭০০ টনের মতো।