বর্তমানে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে ফ্লোর প্রাইজ এখন একটা হটকেক বাক্য।এই মুহুর্তে ফ্লোর প্রাইজ নিয়ে বাজারের বিনিয়োগকারী ,ফেসবুক এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মধ্যে দুটো গ্রুপ তৈরী হয়েছে। যতই দিন যাচ্ছে এই বিবেধ পিছনে ,প্রকাশ্যে কঠিন থেকে কঠিনতম হচ্ছে।
কিন্তু সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে ফ্লোর তোলা এবং ফ্লোর থাকা উভয় পক্ষেরই যুক্তিতর্ক ঠিক আছে।
ফ্লোর তোলার পক্ষের লোকজনের শেয়ার ক্রয় বিক্রির স্বাধীনতা চাওয়া অন্যায় কিছু নয়।তারা হয়ত ভালো দাম পাবেনা ,কিন্তু বাজার দামে ক্রেতা সে পাবে হয়ত,তাদের এই চাওয়াটা অযৌক্তিক কিছু নয়। এজন্য যারা ফ্লোর তোলার পক্ষে কথা বলবে তাদেরকে গালমন্দ করার অধিকার কারো নেই।তাদের নিজের অধিকারের কথা অবশ্যই বলার অধিকার তাদের আছে।।
পক্ষান্তরে ফ্লোর বিরোধীদের ধারণা ফ্লোর উঠে গেলেই শেয়ারের দরে ব্যাপক দরপতন ঘটবে ,সেই ভয় থেকেই তারা ফ্লোরের পক্ষে আওয়াজ তুলছে তাদের ভীতি অমুলক নয়।দেশের রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল না হবার কারণে বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা নেই বল্লেই চলে।ফ্লোর ঊঠে গেলে বিগপেইড শেয়ারের দাম পতন হলে দ্রততায় সূচকের ব্যাপকভাবে পতন হতে পারে এই আশংকায় ফ্লোর না উঠানোর দাবী এক পক্ষের।
তবে একথা না বল্লেই নয় ফ্লোর গতিশীল বাজারের প্রধান অন্তরায়। আজ হোক কাল হোক বাজারের ফ্লোর তুলতেই হবে।আজীবন ফ্লোর রাখতে পারবেনা।
ফ্লোরে থাকা অতিমূল্যায়িত শেয়ারের দাম কারেকশন হতে বাধ্য। ভালো শেয়ার এর দাম সাময়িক কমলেও যৌক্তিক মূল্যে ফিরতে বাধ্য।
তাই ফ্লোর নিয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে গালি দেবার কিছু নেই।
কর্তৃপক্ষের উচিৎ বাজারের সুশাসন নিশ্চিত করা। বাজারের সুশাসন ফিরিয়ে আনতে পারলে বাজারের প্রতি মানুষের চাহিদা বাড়বে।
ফ্লোর তোলার আগে সবার আগে প্রয়োজন বাজারের সুশাসন নিশ্চিত করা ।
অহেতুক ফ্লোর নিয়ে তর্ক না করে কর্তৃপক্ষের উপর বিষয়টি ছেড়ে দেয়াই উত্তম , কর্তৃপক্ষের উচিৎ তরিগরি করে কোন সিদ্ধান্ত না দিয়ে শেয়ার বাজার সংশ্লিষ্ট সকল মহলের পরামর্শে একটি যৌক্তিক আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ফ্লোর প্রাইজ সিস্টেমের একটি ফয়সালা করা।