পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানি জেনেক্স ইনফোসিস পিএলসি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৩ পয়সা আয় করেও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মাত্র ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটির এমন লভ্যাংশ ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ঘোষিত আয় ও লভ্যাংশের মধ্যে সামঞ্জস্য কতটা রয়েছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে। তবে বার্ষিক আয় বিবেচনায় লভ্যাংশের পরিমাণ এত কম হওয়ায় কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের কাছে জবাবদিহি দাবি করছেন বিনিয়োগকারীরা।
আয় ২.০৩ টাকা, লভ্যাংশ মাত্র ১ শতাংশ
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেনেক্স ইনফোসিসের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৩ পয়সা। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ২ টাকা ১৭ পয়সা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে সমন্বিত ইপিএস কমেছে প্রায় ৬.৪৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) বেড়ে ২৪ টাকা ৫ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২২ টাকা ১১ পয়সা। তবে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) কমে ৬ টাকা ৩৬ পয়সা হয়েছে। আগের অর্থবছরে যা ছিল ৬ টাকা ৮৭ পয়সা।
আর্থিক সূচকগুলোর এমন চিত্রের মধ্যে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মাত্র ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বরাদ্দ ৮৯ লাখ টাকা
কোম্পানিটির মোট শেয়ারসংখ্যা ১২ কোটি ৪ লাখ ৫০ হাজার ২১টি। এর মধ্যে স্পন্সর ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৩ কোটি ১৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩২টি শেয়ার। বাকি ৮ কোটি ৯০ লাখ ৫৪ হাজার ২৮৯টি শেয়ার রয়েছে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের হাতে।
ঘোষিত ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুযায়ী, সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে মোট ৮৯ লাখ ৫ হাজার ৪২৯ টাকা বিতরণ করা হবে। অর্থাৎ, কোম্পানিটির বিপুলসংখ্যক সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য লভ্যাংশের মোট অঙ্ক তুলনামূলকভাবে সীমিত।
বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় জবাবদিহি জরুরি
পুঁজিবাজারে একটি কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় ও লভ্যাংশের মধ্যে সব সময় সরাসরি সমানুপাতিক সম্পর্ক থাকে না। ব্যবসা সম্প্রসারণ, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, ঋণ পরিশোধ এবং নগদ অর্থ সংরক্ষণের মতো যৌক্তিক কারণে কোনো কোম্পানি কম লভ্যাংশ দিতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের কাছে সিদ্ধান্তের যথাযথ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।
জেনেক্স ইনফোসিসের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন হচ্ছে, কোম্পানিটির মুনাফার কতটুকু ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে, নগদ অর্থের প্রয়োজন কতটা এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মাত্র ১ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার পেছনে পরিচালনা পর্ষদের যুক্তি কী?
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব শুধু মুনাফা অর্জন নয়, বরং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ বিবেচনায় স্বচ্ছ ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও। তাই ঘোষিত আয় ও লভ্যাংশের মধ্যে এমন ব্যবধানের যৌক্তিক ব্যাখ্যা বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা এবং কোনো অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের উচিত লভ্যাংশ নির্ধারণের যুক্তি ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সম্পর্কে শেয়ারহোল্ডারদের স্পষ্ট ধারণা দেওয়া।
এজিএম ও রেকর্ড তারিখ
কোম্পানিটির ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০২৬। ১৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০২৬, সকাল ১১টায় হাইব্রিড পদ্ধতিতে এসকেএস কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। লভ্যাংশের সুপারিশ এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনসাপেক্ষ।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে কোম্পানির আর্থিক সাফল্যের পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণও গুরুত্বপূর্ণ। জেনেক্স ইনফোসিসের লভ্যাংশ ঘোষণার বিষয়ে তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন অসন্তুষ্ট বিনিয়োগকারীরা।