আজ পহেলা কার্তিক। আবহমান বাংলায় ষড়ঋতুর পরিক্রমায় এলো হেমন্ত। শরতের পর কার্তিক–অগ্রহায়ণ মিলে হেমন্ত। নতুন ঋতুর আগমনে রূপ বদলায় প্রকৃতি। শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে ধীর পায়ে প্রকৃতিতে আসে হেমন্ত। তাই তো একে বলা হয় শীতের বাহন। পঞ্জিকার পাতায় আজ থেকে হেমন্ত শুরু হলেও প্রকৃতিতে অনুভূত হচ্ছে গরম আমেজ। তবে গ্রামীণ জনপদে শেষ রাতে ও খুব ভোরে এখন হিম শীত অনুভব শুরু হয়েছে।
হেমন্তের শস্যভরা মাঠ কমবেশি সবাইকে আনন্দ জোগায়। চাষিরা ধান কাটার প্রস্তুতিতে সচল হয়ে ওঠেন। যাঁরা মাঠ থেকে দূরে, তাঁরাও চোখের আরাম খোঁজেন শস্যের সবুজে, সোনালি ফসলে। কৃষিজীবী এই দেশে যতই নাগরিক গড়ন এদিক-ওদিক বেড়ে উঠুক না কেন, এখানকার কাদামাটি, তার ঘ্রাণ এখনো কমবেশি সবার জীবনের নানা ভাঁজে আর বাঁকে লেগে আছে।
যদিও এই নাগরিক কিংবা গ্রামীণ জীবন নানা সংকটে এখন হাঁসফাঁস করছে। বেশির ভাগ নিত্যপণ্যই দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। এ রকম একটা সময়ে শরতের পূর্ণিমা, হেমন্তের রূপশালি ধানের রূপ আর কতজনই অনুভব করতে পারে! তারপরও মানুষই সব প্রতিকূলতা জয় করে টিকে থাকে। হেমন্ত তাই মানুষের কাছে বন পর্যটন আর সমুদ্রে বেড়ানোর টান তৈরি করে। একটু খোলা হাওয়া, একটু মুক্ত আকাশ আর ঘাসের জমিন খুঁজতে মানুষ পথে বের হয়।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কার্তিকের ঋতু হেমন্তকে নিয়ে লিখেছেন– ‘আজি হেমন্তের শান্তিব্যাপ্ত চরাচরে, জনশূন্য ক্ষেত্র মাঝে দীপ্ত দ্বিপ্রহরে, শব্দহীন গতিহীন স্তব্ধতা উদার, রয়েছে পড়িয়া শ্রান্ত দিগন্ত প্রসার, স্বর্ণশ্যাম ডানা মেলি।’
তবে শরতের পরে আর শীতের আগে এ ঋতু এখন যেন কাগুজে ঋতুতে পরিণত হয়েছে। বাস্তবে এ ঋতুর আবেশ বাঙালির ঐতিহ্য থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে।
এখন থেকে যত দিন যাবে, ততই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কমতে থাকবে। পার্থক্য যত কমবে, তত শীত বাড়তে থাকবে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে এখন প্রকৃতি যেন আর নিয়ম মানছে না। অনেকটা সে নিজের হয়ে উঠতে পারছেনা।
জলবায়ুর এত পরিবর্তনের মূল কারণ বনায়ন কমে যাওয়া, পরিবেশে অতিরিক্ত কার্বন ছড়ানো ও নদীনালা কমে যাওয়া। আসুন প্রকৃতিকে বাঁচাতে আমরা যার যার অবস্থান থেকে পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করতে চেস্টা করি।