কারো সর্বনাশ, কারো পৌষ মাস , হার্দিক পান্ডিয়ার চোট শামির জন্যে আর্শীবাদ হয়ে আসল যেন।কখন কার ভাগ্য কীভাবে খুলে যায় বলা যায় না। পুরো বিশ্বকাপেই যাকে বসিয়ে রাখার পরিকল্পনা ছিল ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের, ভাগ্যের ফেড়ে সেই মোহাম্মদ শামিই এখন বিশ্বকাপের নায়ক। ৬ ম্যাচেই আসরের সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট নিয়ে সামি ভারতীয়দের পাশাপাশি বিশ্ব ক্রিকেট প্রেমীদেরও মন জয় করে নিয়েছেন। ভাসছেন প্রশংসার জোয়ারে।এযেন এক আশ্চর্যজনক ঘটনা।
অথচ বিশ্বকাপে তার খেলাই হতো না, যদি হার্দিক পান্ডিয়া চোট পেয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে না পরতেন ,ঘটনা সত্যই। শামিকে বিশ্বকাপে না খেলানোর পরিকল্পনাই ছিল ভারতীয়দলের। ভারতীয় দলের পক্ষ থেকেই নিজেদের এই পরিকল্পনার কথা ফাঁস করা হয়েছে।ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ স্বয়ং নিজেই ফাঁস করেছেন এই তথ্য।
তিনি বলেছেন, তারা যে পরিকল্পনায় প্রতি ম্যাচের একাদশ সাজাচ্ছিলেন, সেই পরিকল্পনায়‘শুধু বোলার’ শামির জায়গা ছিল না। হার্দিক পান্ডিয়ার চোট তার জন্য দলের দরজা খুলে দিয়েছে। এ জন্যই তো প্রবাদে আছে, ‘কারো সর্বনাশ, কারো পৌষ মাস।’ ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘আমরা যে পরিকল্পনায় দল সাজাচ্ছিলাম, তাতে শামির জায়গা ছিল না।ওকে দলে নেওয়াটা আসলে খুব কঠিন ছিল। হার্দিক চোট পাওয়ায় ওকে নেওয়ার সুযোগ আসে।’
শামি ভারতের ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ দলে থাকলেও দলীয় পরিকল্পনার ভিত্তিতে প্রথম চারটি ম্যাচ খেলা হয়নি তার। বলা ভালো, প্রথম চার ম্যাচে দলে জায়গা হয়নি তার। স্পেশালিস্ট পেসার হিসেবে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের চোখে সেরা পছন্দ ছিলেন জসপ্রিত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজ। এই দুজনের সঙ্গে পেস অলরাউন্ডার হিসেবে হার্দিক পান্ডিয়া বা শার্দুল ঠাকুর।
‘শুধু পেস বোলার’ শামিকে প্রথম চারটি ম্যাচ দেখতে হয় দর্শক হয়ে। দল যেহেতু জিতেই চলছিল, সবকিছু ঠিকঠাক ভাবে চললে হয়তো শামির রিজার্ভ বেঞ্চ কাটিয়ে দিতে হতো বিশ্বকাপ। যেমন কাটাচ্ছেন স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে, নিজের বলে নিজেই ফিল্ডিং করতে গিয়ে পায়ে চোট পান হার্দিক পান্ডিয়া। যে চোট তাকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে ফেলে। আর তার ছিটকে পড়াই খুলে দেয় শামির ভাগ্যের দরজা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচেই প্রথম মাঠে নামার সুযোগ পান শামি। আর প্রথম সুযোগেই অগ্নিঝরা বোলিংয়ে ৫৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাজিমাত করেন। পান ম্যাচসেরার পুরস্কার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচে ২২ রান খরচায় ৪ উইকেট। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরের ম্যাচে আবার মাত্র ১৮ রান খরচায় ৫ উইকেট। এবারও তার পকেটে উঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। ৩ ম্যাচে ১৪ উইকেট, দুই বার ম্যাচ সেরা। এমন একজনের দলে সুযোগ পাওয়া আটকায় কে! দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট।
শুধু নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেই সামির উইকেট উত্সব করা হয়নি। ডাচরা বোধহয় খুব ভালো করেই সামিকে অনুশীলন করে নেমেছিল! অথবা সামি হয়তো সেমিফাইনালে বিশেষ কারিশমা দেখানোর জন্যই ডাচদের বিপক্ষে নিজেকে শান্ত রেখেছিলেন! যাই হোক, শামি নিজের সবচেয়ে ভয়ংকর রূপটা দেখিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে। ৫৭ রান খরচায় ৭ উইকেট নিয়ে গড়েছেন একগাদা রেকর্ড। তৃতীয় বারের মতো পকেটে পুরেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
সব মিলে ৬ ম্যাচেই ২৩ উইকেট, তিন বার ম্যাচসেরা। যদি প্রথম ৪টি ম্যাচও খেলতে পারতেন, তাহলে শামির উইকেট সংখ্যা কত হতো কে জানে! স্বপ্নময় যাত্রায় শামি অবচেতন মনে ইহয়তো ধন্যবাদ জানাচ্ছেন সৃষ্টিকর্তাকে, ভাগ্যের চাকা এমন অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরিয়ে দেওয়ারজন্য।
হার্দিক পান্ডিয়া চোট না পেলে শামির এই অসাধারণ পারফরম্যান্স ক্রিকেট প্রেমি মানুষেরঅদেখাই রয়ে যেত।ফাইনাল ম্যাচে যদি আরেকবার জলে উঠতে পারেন শামি তাহলেভারতের কাপ জয় সহজ হয়ে যাবে বহুলাংশে।