গতকাল সোমবার (৮ জানুয়ারি)সৌদি আরব সরকারের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক হজ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। জেদ্দায় সম্পাদিত এই চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছর ১ লক্ষ ২৭ হাজার ১৯৮ জন বাংলাদেশি হজপালনের সুযোগ পাবেন। এদিকে হজ প্যাকেজের উচ্চমূল্যের প্রভাবে চলতি মৌসুমেও গত বছরের মতো এবারও সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ গমনেচ্ছুদের নিবন্ধনে ভাটা পরেছে।ফলে গত বছরের মতো এবারও কোটা পূরণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য গত বছরের ১৫ নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত তিন দফা নিবন্ধনের সময় বৃদ্ধি করা হলেও গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছে মাত্র ৩ হাজার ১৫৭ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছে ৩০ হাজার ৫৯৮ জন। নিবন্ধনের শেষ সীমা আগামী ১৮ জানুয়ারি। সব মিলিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন ৩৩ হাজার ৭৫৫ জন। এখনো ৯৪ হাজারের বেশি হজ গমনেচ্ছুদের আসন ফাঁকা রয়েছে।ফলে গত বছরের মতো ২০২৪ সালেও কোটা পূরণ নিয়ে শঙ্কা জেগেছে,দফায় দফায় সময় বৃদ্ধি করেও সাড়া মিলছে যৎসামান্য ,জানা গেছে এখনও ৯৪ হাজার কোটা ফাঁকা।
হজ সংশ্লিষ্টরা বলছেন,মুলত হজ প্যাকেজের উচ্চমূল্যের কারণে হজ গমনেচ্ছুদের অনেকের বাজেটে কুলাচ্ছে না। চলতি ২০২৪ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার দুইটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা। আর বিশেষ প্যাকেজের মূল্য ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা। অপরদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দুইটি প্যাকেজের মূল্য যথাক্রমে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮১৮ টাকা। যদিও গত বছরের চেয়ে এ বছর সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য ১ লাখ ৪ হাজার ১৬০ টাকা কমানো হয়েছে, তবুও বর্তমান হজ প্যাকেজের মূল্যকে অনেক বেশি মনে করছেন হজে যেতে আগ্রহীরা।
আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ কোন দেশেই হজ করতে এমন উচ্চমূল্য দিতে হয় না। এক্ষেত্রে হজ যাত্রীদের জন্য সাধারণভাবে বিমান ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধির কথা বলা হয়ে থাকে। তবে অভিযোগ আছে, হজকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটের কাছে অধিকাংশ হজযাত্রী জিম্মি। হজ নিয়ে বাণিজ্য করার জন্য গড়ে উঠেছে হজকেন্দ্রিক মার্কেটিং অফিসার, কমিশন বাণিজ্য, এজেন্সির সিন্ডিকেট এবং হজযাত্রী পরিবহণ সিন্ডিকেট। সৌদি আরবে বাসা ভাড়া কেন্দ্রিক প্রতারণা, কখনো কখনো হজযাত্রীদের জমা দেওয়া টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়াসহ নানা অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে হজ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে। হজের মতো মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নিয়ে এই ব্যবসা চলছে বছরের পর বছর। আকাশচুম্বী প্যাকেজমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে পবিত্র হজ।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আগ্রহী হজযাত্রীরা ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ২ লাখ ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন বা প্যাকেজের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে পারবেন। প্রাথমিক নিবন্ধন করার পর ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবশ্যিকভাবে প্যাকেজের অবশিষ্ট টাকা জমার মাধ্যমে চূড়ান্ত নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে। মার্চের প্রথমদিন থেকে ভিসা ইস্যু করা হবে এবং সৌদি ই-হজ সিস্টেমে ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল ভিসা ইস্যু বন্ধ হয়ে যাবে। হজ ফ্লাইট শুরু হবে ৯ মে,২০২৪ থেকে।
মুলত আকাশচুম্বী প্যাকেজমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে পবিত্র হজ,যে কারণে হজ গমনেচ্ছুদের নিবন্ধনে ভাটা পরেছে।সরকারের উচিৎ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যাতে সাধারণ মানুষ অল্প খরচে হজ করতে পারেন।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।