দেশের শেয়ারবাজারে বর্তমানে যে দূরাবস্থা তাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে মুনাফায় থাকা ভালো সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিকল্প নেই। কারণ, ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধসের পর ভালো মানের আইপিও আসেনি বললেই চলে।এমন সব কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে যার বেশির ভাগই এখন রুগ্ন।
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের গভীরতা কম। এক্ষেত্রে সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হলে শেয়ারবাজারের গভীরতা বাড়বে।
বাংলাদেশে দেশে প্রায় ৪০ টি বহুজাতিক কোম্পানি ব্যবসা করছে। এর মধ্যে মাত্র ১২টি কোম্পানি বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে।বাকিগুলি তালিকাভুক্ত করার জন্যে সরকারের এমন পদক্ষেপ নিতে হবে।যাতে কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত উৎসাহিত হয়।
বাংলাদেশে যে বহুজাতিক কোম্পানি ব্যবসা করে এর মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত রয়েছে মাত্র ১২ টি কোম্পানি। এগুলো হচ্ছে—ব্রিটিশ–আমেরিকান টোব্যাকো, লিন্ডে বাংলাদেশ, রেকিট বেনকিজার , সিঙ্গার বাংলাদেশ, বাটা সু, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, লাফার্জসুরমা সিমেন্ট লিমিটেড,বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ, ম্যারিকো বাংলাদেশ,
গ্রামীণফোন, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ যা এখন ইউনিলিভার নামে তালিকাভুক্ত আর সর্বশেষ তালিকাভুক্ত হয় রবি আজিয়াটা লিমিটেড ।
বর্তমানে বাংলাদেশে বহুজাতিক কোম্পানি দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করছে ইউনিলিভার(টয়লেটট্রিজ), নেসলে ফুড, প্রক্টার অ্যান্ড গ্যাম্বল, ব্যাংকের মধ্যে এইচ এস বি সি, স্ট্যান্ডার্ডচার্টার্ড, সিটি ব্যাংক এন এ–সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটিই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়।
বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে করণীয়:
যে–সব বিদেশি কোম্পানি দেশের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত তাদের করহার অতালিকাভুক্ত বিদেশি কোম্পানির করহারের চেয়ে ১৫ শতাংশ কম নির্ধারণ করা যেতেপারে। তাতে অতালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলি তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হবে।
যে–সব বিদেশি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, তাদের নগদ লভ্যাংশের ওপরবর্ধিত হারে করারোপ করা যেতে পারে। অন্যদিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করে তুলতে ট্যাক্স হলিডে প্রদানসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।
এছাড়া কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে নিয়ে আসতে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যেতেপারে।
বাংলাদেশে ব্যবসা করার জন্য কোম্পানিগুলোকে আরজেএসসি থেকে নিবন্ধন সনদ নিতেহয়। এ নিবন্ধনের সময় শর্তারোপ করে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির ব্যাপারেবাধ্য করা যেতে পারে।
কোম্পানির মূলধনের একটি নির্দিষ্ট অংশ শেয়ারবাজার থেকে পাবলিক অফারের মাধ্যমেসংগ্রহের শর্ত আরোপ করা যেতে পারে।
এছাড়া বহুজাতিক কোম্পানিগুলো কোনো না কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত, এদের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বাধ্য করতে বাধ্য করতে হবে।
উল্লেখ্য অন্যান্য দেশে ব্যবসা করতে বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার ছাড়তে বাধ্য থাকে যা শুধু বাংলাদেশই নেই।
উপরিউক্ত বিষয়গুলি কার্যকর করলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হত।