দেশের শেয়ারবাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোর প্রাইসের আওতায় থাকা তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেড এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর শেয়ারের ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন মূল্যসীমা) ও অন্যান্য শর্তাবলী প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আজ সোমবার (০৮ জুন ২০২৬) বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নতুন এই নির্দেশনা আগামীকাল মঙ্গলবার (০৯ জুন ২০২৬) থেকে কার্যকর হবে।
বিএসইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারের স্বার্থ রক্ষা এবং সিকিউরিটিজ মার্কেটের স্বাভাবিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ২০এ ধারার ক্ষমতাবলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট জারি করা আদেশ অনুযায়ী বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেনের ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শর্ত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে শেয়ার দুটি স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থায় লেনদেন হবে।
বিএসইসির ২০২১ সালের ১৭ জুন জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত সকল সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে প্রচলিত আপার ও লোয়ার সার্কিট ব্রেকার কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ অন্যান্য শেয়ারের মতোই নির্ধারিত সীমার মধ্যে এ দুই কোম্পানির শেয়ারের দাম ওঠানামা করতে পারবে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে এবং শেয়ারের মূল্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরেই এ দুই কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের দাবি ছিল। অবশেষে সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়ন ঘটল নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একটি কার্যকর ও দক্ষ পুঁজিবাজারে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ হওয়া উচিত চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে। সে দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্ত বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারে এমন কোনো অস্বাভাবিক বা দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, যা বাজারের স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। একটি স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও নীতিনির্ভর পুঁজিবাজার গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।