দেশে ডলার–সংকটের কারণে প্রবাসী আয় কেনা নিয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে এখন প্রতিযোগিতা চলছে। যেসব ব্যাংক বেশি দামে কেনার সুযোগ পাচ্ছে বা যাদের ডলারের চাহিদা বেশি, তারা প্রবাসী আয়ের বেশি ডলার কিনছে। এখন যে বেশি দাম দেয়, সে–ই বেশি প্রবাসী আয় পায়। যাদের চাহিদা বেশি, তারা বেশি দামে ডলার কিনে নেয়। পাশাপাশি যেসব ব্যাংকের নেটওয়ার্ক বেশি, তারা কিছুটা সুবিধা পায়।
প্রবাসী আয়ের বড় অংশ এখনো বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর মাধ্যমে আসে। পাশাপাশি কিছু প্রবাসী নিজেরাই বিদেশি অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে আয় পাঠিয়ে থাকেন। আবার কেউ কেউ এই লোকগুলোর সহায়তায় দেশে আয় পাঠান। এ জন্য ব্যাংক হিসাব বা মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীর মুঠোফোন নম্বরে একটি পিন নম্বর যায়।
এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো জমা হওয়া অর্থ বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর কাছে দামাদামির ভিত্তিতে বিক্রি করে। যে ব্যাংক বেশি দাম দেয়, সেই ব্যাংকই বেশি ডলার পায়। আর যেসব প্রবাসী মুঠোফোন নম্বরের মাধ্যমে আয় পাঠান, তাঁদের আত্মীয়রা পিন নম্বর দেখিয়ে ওই এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে চুক্তি আছে—এমন ব্যাংকের যে কোনো শাখা থেকে টাকা তুলতে পারেন।
অর্থ স্থানান্তরের জন্য বিভিন্ন দেশে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মানিগ্রাম, রিয়া, ট্রান্সফাস্ট, আল রাজি এক্সচেঞ্জের মতো কয়েক শ এক্সচেঞ্জ হাউস রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর মালিকানাধীন ও বাংলাদেশি নাগরিকদের মালিকানাধীন এক্সচেঞ্জ হাউসও রয়েছে। সব ধরনের এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর চুক্তি রয়েছে। যেসব ব্যাংকের সঙ্গে বেশি এক্সচেঞ্জ হাউসের চুক্তি রয়েছে, তারা বাড়তি সুবিধা পায়।
আগে প্রবাসী আয় সংগ্রহে ইসলামী ব্যাংক ছিল শীর্ষে। পরের জায়গাটিতে ছিল অগ্রণী ব্যাংক, যেটি এখন দশম স্থানে নেমে গেছে। পাশাপাশি সরকারি খাতের সোনালী ব্যাংক আর জনতা ব্যাংকও এখন তালিকার শীর্ষ দশে নেই। অন্যদিকে এমন কিছু ব্যাংকের আয় অস্বাভাবিক বেড়েছে, যাদের দেশের সব জেলায় শাখাও নেই। দাম বেশি দেওয়ার কারণেই মূলত এসব ব্যাংকের আয় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে বলে মনে করা হয়।