অর্থ লিপি

২১ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

পুঁজিবাজারের বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, সমাধান জরুরি

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

পুঁজিবাজারের বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, এগুলোর সমাধান করা জরুরি। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও পুঁজিবাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর সাথে বৈঠককালে এক্সচেঞ্জটির চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম এ কথা বলেন।

বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে প্রভাব পড়তে পারে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাজারসংশ্লিষ্টদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হয়। বাংলাদেশেও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। যদিও অনেক ক্ষেত্রেই এটি অনুসরণ করা হয় না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জের ন্যূনতম একজন প্রতিনিধি রাখার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও পুঁজিবাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তিনি গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সঙ্গে বৈঠককালে এক্সচেঞ্জটির চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের অনুরোধে এ সম্মতি জানান।

বৈঠকের শুরুতে ডিএসইর চেয়ারম্যান দেশের পুঁজিবাজারের সামগ্রিক অবস্থা, ডিএসইর কার্যক্রম এবং পুঁজিবাজারের কাঠামোগত বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারের বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো অর্থনীতিতে পুঁজিবাজার ও অর্থবাজারের ভূমিকা মুখোমুখি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতা, আইপিও প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন ও মূল্যায়ন, করপোরেট বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ডের পলিসি ও প্রক্রিয়াগুলো সহজীকরণ, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্ট ও ডিসক্লোজারের নির্ভরযোগ্যতা, বাজারের মধ্যস্থতাকারীদের সক্ষমতা ও সুশাসন, ইনসাইডার ট্রেডিং, সার্ভেইল্যান্স ও পুঁজিবাজারের জন্য পলিসি সাপোর্ট।’

বর্তমানে পুঁজিবাজারের পতনের কারণ উল্লেখ করার পাশাপাশি আস্থা বৃদ্ধির জন্য করণীয় সম্পর্কেও আলোকপাত করেন মমিনুল ইসলাম। এছাড়া পুঁজিবাজার সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জের ন্যূনতম একজন প্রতিনিধি রাখার ব্যাপারে অনুরোধ করেন তিনি।

সভায় ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘‌সরকার পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সংস্কার নিশ্চিতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করছে। প্রধান উপদেষ্টা দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার তথা পরিবর্তনের জন্য কাজ করছেন। দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। বিদেশী ঋণ পরিশোধসহ অনেক ইতিবাচক ঘটনা ঘটছে। এর প্রভাব শিগগিরই পুঁজিবাজারে পড়বে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির চেষ্টা চলছে। সংস্কার টাস্কফোর্সের সুপারিশে দ্রুতই পাবলিক ইস্যু রুলসের সংস্কার করা হবে। পুঁজিবাজারে বিদ্যমান সমস্যা যেগুলো আপনাদের বা বিএসইসি ও ডিএসইর আওতার মধ্যে আছে সেগুলো আপনারা সমাধান করুন। আর যেগুলো আওতার বাইরে সেগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা মন্ত্রণালয়কে জানান। আমি আপনাদের সব কথাই শুনব এবং বাজার উন্নয়নে যা প্রয়োজন তার সব কিছুই করবো।’

এ সময় বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কমিশনার মো. মহসিন চৌধুরী ও মো. আলী আকবর, পুঁজিবাজার সংস্কারবিষয়ক টাস্কফোর্সের সদস্যরা, ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং ডিবিএ, সিডিবিএল, সিসিবিএলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে গত ১৭ মার্চ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীকে সভাপতি করে পুঁজিবাজার উন্নয়নে কমিটি গঠন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। চার সদস্যের এ কমিটি দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিএসইসিকে অধিকতর শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছে। কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকুল ইসলাম, কমিটির সদস্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বীমা ও পুঁজিবাজার অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাঈদ কুতুব এবং কমিটির সদস্য সচিব ও বিএসইসি কমিশনার ফারজানা লালারুখ।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।