বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হলেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যংকের ১৩তম গভর্নর হিসেবে আগামী চার বছরের জন্য তাকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
তিনি পদত্যাগ করা বিদায়ী গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।এর আগে ৯ আগস্ট বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার পদত্যাগ করেন।
প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর যোগাযোগ করা হলে আহসান এইচ মনসুর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘সরকারকে ধন্যবাদ। নতুন দায়িত্ব, কিছুটা চ্যালেঞ্জিংও বটে। তবে সবাইকে নিয়েই আমি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব।’
রাষ্ট্রপতির আদেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের উপসচিব আফছানা বিলকিসের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ এর ১০ (৫) অনুযায়ী পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুরকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে ৪ (চার) বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।’
ড. আহসান এইচ মনসুর গভর্নর পদে থাকাকালীন সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত মোতাবেক বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক হতে গ্রহণ করবেন।
দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশ ছুঁই ছুঁই করছে। খাদ্যের মূল্যস্ফীতি আরও বেশি—১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির এই চিত্র ১৩ বছর ৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ঠিক এ রকম সময়েই বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩তম গভর্নরের দায়িত্ব পেয়েছেন বিশিষ্ট গবেষক আহসান এইচ মনসুর।
অন্য সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকেরও অন্যতম প্রধান কাজ হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। এত বছর এ কাজ অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংককে তেমন মনোযোগী হতে দেখা যায়নি।