অর্থ লিপি

২৩ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার ৭ কার্তিক ১৪৩৩

ধনী দেশগুলোর কাছে ৬ লাখ কোটি ডলার পাবে বাংলাদেশ

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

উন্নত বিশ্বের জলবায়ু দূষণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ধনী দেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশের পাওনা প্রায় ৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন বা ৫ লাখ ৮০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশনএইড ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের ৫৪টি নিম্ন আয়ের দেশ বিদেশি ঋণের ফাঁদে পড়েছে। এসব দেশ জাতীয় উন্নয়ন ব্যাহত করে ধনী দেশগুলোর কাছে ১৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে।

বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর ন্যায্য পাওনা ১০৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এই দেশগুলোর উপর বৈদেশিক ঋণের বোঝা মাত্র ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ধনী দেশগুলোর দেনার তুলনায় ৭০ গুণ কম।

২০২৩ সালে বাংলাদেশ একাই বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে ৪৭৭ কোটি মার্কিন ডলার। অথচ, জাতীয় রাজস্বের ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ বিদেশি ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ ও শিক্ষা খাতে ১১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

অ্যাকশনএইডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধনী দেশগুলোর জলবায়ু ক্ষতিপূরণ পরিশোধে ব্যর্থতার ফলে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জলবায়ু কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, ‘নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ঋণের ফাঁদের ভয়াবহতা এই প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে। ঔপনিবেশিক ঋণ কাঠামো থেকে মুক্তির জন্য আমাদের জোরালো দাবি তুলতে হবে।’

প্রতিবেদনে বিশ্ব নেতাদের কাছে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে, ঋণ পরিশোধের নতুন জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন প্রণয়ন। জলবায়ু ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ। বৈদেশিক ঋণ মওকুফের জন্য বৈশ্বিক সংহতি গড়ে তোলা।

জানা গেছে, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠিত আফ্রিকান ইউনিয়নের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ‘হু ওজ হু’ নামে বিশেষ এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে অ্যাকশনএইড ইন্টারন্যাশনাল।

ধনী দেশগুলোর ঋণের হিসাব দুটি পদ্ধতিতে করা হয়েছে:
১. ১৯৯২ সাল থেকে নিঃসরণ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ ৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওনা।
২. ১৯৬০ সাল থেকে হিসাব করলে পাওনার পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ধনী দেশগুলো প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।