গতকাল সোমবার (১৯শে ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দীন চৌধুরী দেশের ব্যাংক, আর্থিকখাত এবং এলসি (ঋণপত্র) বিষয়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন।
তিনি বলেন দেশে বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে ব্যাংক খাতের অনিয়মের কোনো একটি ঘটনারও সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি, হওয়ার কোন লক্ষণও নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ ব্যাংকিং খাতের ওপর কীভাবে আস্থা রাখবে বলে সংসদে প্রশ্ন রাখেন জাতীয়পার্টির এই সংসদ সদস্য।
তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি আর দায়বদ্ধতার অভাব বাংলাদেশের ‘অর্থনীতির সমার্থক’ হয়ে গেছে।
বন্ধ হয়ে যাওয়া পিপলস লিজিংয়ের কথা উল্লেখ করে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষ এই প্রতিষ্ঠানে টাকা রেখেছে। কয়েক বছর ধরে তারা টাকা ফেরত দিতে পারছে না। মানুষ যদি সরকার, ব্যাংককে বিশ্বাস করতে না পারে, তাহলে কোথায় যাবে?’ তিনি বলেন, ‘এখন অনেক ব্যাংক আছে, চেক নিয়ে গেলে দুই ঘণ্টা পর, কাল–পরশু আসতে বলে, টাকা দিতে পারে না। এই অবস্থা কত দিন বিরাজ করবে।’ এমন প্রশ্ন রেখে তিনি এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য আশা করেন।
মাসুদ উদ্দীন চৌধুরী সংসদে আরও বলেন, এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে দ্রব্যমূল্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। কয়েক দিন আগেও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, অনেকগুলো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাজারে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। প্রতিফলন দেখা না গেলে এসবের অর্থ কী। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরও বেশি সজাগ হতে হবে।
গতকাল আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির অন্য আরেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ বলেন, ব্যবসায়ীরা এলসি (ঋণপত্র) খুলতে পারছেন না। রমজানের আগে যদি এলসি খুলতে না পারেন, তাহলে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে। তিনি বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে জরুরি প্রকল্পগুলো বাদে বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন না করার দাবি জানান।