দেশে অধিকাংশ কোম্পানির উদ্যোক্তাগণ নিজস্ব পুঁজি দিয়েই ব্যবসা শুরু করেন। একটা সময় কোম্পানি বড় হয়, উদ্যোক্তাগণ অভিজ্ঞতা লাভ করেন। তিলে তিলে কস্ট করে গড়ে তোলা স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটি বৃহৎ আংগিকে সম্প্রসারণের উদ্যোগ শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠানটিকে প্রাইভেট থেকে পাবলিকে রুপান্তর হয়। কোম্পানিকে প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা ও মার্কেট শেয়ার দখলে নিতে নিত্য নতুন কর্মকৌশল গ্রহণ করতে হয়। প্রয়োজন হয় প্রচুর অর্থের। সুযোগ আসে পুঁজিবাজার থেকে Initial Public Offering (IPO) এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুঁজি সংগ্রহের।
তখনই প্রশ্ন আসে, কোম্পানি কেন আনবো আইপিও’তে? আর এর উত্তর খুঁজতেই আমাদের আজকের আলোচনা।
একটি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে প্রথমেই যে কারণটি বিবেচনা করা হয়, তা হলো ব্যবসায় সম্প্রসারণের সুযোগ গ্রহণে অর্থের প্রয়োজনীয়তা। এক্ষেত্রে প্রতিটি কোম্পানি ব্যাংকের প্রচলিত ঋণের সুদকে বিবেচনা করে। তাইতো অধিকাংশ কোম্পানি সুদ প্রদানের বাধ্যবাধকতা থেকে নিজেদের সরিয়ে আনতে আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করে থাকেন।
একটি কোম্পানি যখন বৃহৎ কোম্পানিতে রুপান্তরিত হয় তখন তা শুধু কয়েকজন উদ্যোক্তার কোম্পানি হিসেবে থাকে না, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। জনগণও চায় এর সাথে সম্পৃক্ত হতে। পুঁজিবাজার হচ্ছে অন্যতম মাধ্যম জনগণকে সম্পৃক্ত করার। কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে জনসাধারণের শেয়ারহোল্ডার হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। যার ফলে কোম্পানি প্রকৃত জনসাধারণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
একটি ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে পুঁজিবাজারে লাভজনক ও মৌল ভিত্তিসম্পন্ন সিকিউরিটিজ সরবরাহ বাড়ে। বিনিয়োগকারী আস্থা বৃদ্ধি পায়। পুঁজিবাজার বিকশিত ও গতিশীল হয়। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ভালো কর্পোরেট গভর্নেন্স অণুশীলনকে উৎসাহিত করার জন্য কোম্পানিটি অণুসরণীয় হয়। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম, পরিধি ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির সম্ভাবনা সৃস্টি হয়। কোম্পানির সরকার কর্তক নীতিগত সুবিধা প্রাপ্তি সহজ হয়। প্রচার, প্রসার ও জনসম্পৃক্ততা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
আইপিও থেকে সংগৃহীত মূলধনের মাধ্যমে চলমান ব্যবসা সম্প্রসারণ, ঋণ পরিশোধ, নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং লাভজনক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। পাবলিক ইস্যুর রুলস অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীগণের প্রস্তাবিত ইস্যুর ১৫% প্লেসমেন্ট শেয়ারে বিনিয়োগের সুযোগ সৃস্টি হয়। তালিকাভুক্ত হলে সহজ শর্তে মূলধন বৃদ্ধির সুযোগ যেমন বাড়ে তেমনি সহজে মালিকানা হস্তান্তরের সুযোগ আসে। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার স্বচ্ছতা এবং পরিচিতি ও ব্র্যান্ড ভ্যালু উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির তুলনায় কর হার হ্রাস পায়। এছাড়াও কর্পোরেট প্র্যাক্টিসে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা হলে জাতীয় অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখে। দেশীয় এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির মধ্যমে একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশীয় এবং বিদেশী বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট হয় এবং বিনিয়োগকারীগণ নিয়মিত লভ্যাংশ পাওয়ায় অর্থণীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।
তালিকাভুক্ত হলে উদ্যোক্তাগণ প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করে। সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের প্রদত্ত মতামতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে জনবান্ধব করা সম্ভব হয়।
এছাড়াও স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমে কোম্পানি বিশেষ মিডিয়া কাভারেজ পায়। এভাবে কোম্পানির পণ্য এবং পরিষেবাগুলির তথ্য সহজেই ক্রেতার নিকট পৌছায়। সর্বোপরি কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমে প্রচলিত উৎসের বাইরের উৎস থেকে মূলধন সংগ্রহ করা সহজ হয়।