দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সামনে আসছে অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ফোল্ড’।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ফোনটির সম্ভাব্য মূল্য হতে পারে প্রায় ২ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার বেশি।
অ্যাপল বিশ্লেষক মার্ক গুরম্যানের জানিয়েছেন, নতুন এই ফোল্ডেবল ফোনটি বাজারে আসতে পারে আইফোন ১৮ সিরিজের সঙ্গেই। আগে ধারণা করা হয়েছিল এর দাম আরও বেশি হতে পারে, তবে প্রতিযোগিতামূলক বাজার বিবেচনায় অ্যাপল তুলনামূলক কম দামে এটি বাজারে আনতে পারে।
বিশ্ববাজারে বর্তমানে স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড এবং গুগল পিক্সেল ফোল্ড ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে আধিপত্য বজায় রেখেছে। নতুন আইফোন ফোল্ড সরাসরি এই দুই জায়ান্টের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফিচারের দিক থেকেও চমক থাকতে পারে। জানা গেছে, ফোনটির ভেতরের স্ক্রিন হতে পারে প্রায় ৭.৮ ইঞ্চি, যা ব্যবহারকারীদের আইপ্যাডের মতো অভিজ্ঞতা দেবে। এতে এক সঙ্গে দুটি অ্যাপ চালানোর সুবিধাও থাকতে পারে। ভাঁজ করা অবস্থায় বাইরে থাকবে ৫.৩ ইঞ্চির একটি ডিসপ্লে।
হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে থাকবে ১২ জিবি র্যাম এবং সর্বোচ্চ ১ টেরাবাইট স্টোরেজ সুবিধা।
ক্যামেরা প্রযুক্তিতেও নতুনত্ব আনতে পারে অ্যাপল। বিশ্লেষক জেফ পু’র মতে, ফোনটির সামনের দিকে থাকতে পারে দুটি ১৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা এবং পেছনে থাকতে পারে দুটি ৪৮ মেগাপিক্সেল সেন্সর।
এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসতে পারে। ফেস আইডির পরিবর্তে এই মডেলে টাচ আইডি ব্যবহার করার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি, ভলিউম বাটনের অবস্থানও বদলে ডান পাশের ওপরের অংশে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।
বিশ্ববাজারে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের প্রতিযোগিতা যখন তুঙ্গে, তখন অ্যাপলের এই নতুন উদ্যোগ বাজারে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আইফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।