শেয়ারবাজারে সপ্তাহের চলমান ধারাবাহিকতায় আজও নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। সূচকের মাঝারি উত্থান থাকলেও স্টকভিত্তিক দাপট এবং ৯০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন বাজারকে চাঙা রেখেছে।
দিনশেষে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক DSEX ২৪.৯২ পয়েন্ট বা ০.৪৭% বেড়ে অবস্থান করছে ৫,২৫৭ পয়েন্টে। এছাড়া শরীয়াহ সূচক DSES ২.৯৫ পয়েন্ট এবং বাছাইকৃত কোম্পানিগুলোর সূচক DS30 ৪.১৬ পয়েন্ট বেড়েছে।
গত দিনের ধারাবাহিকতায় আজও বাজারে স্টকভিত্তিক মুভমেন্ট স্পষ্ট। সূচক কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু বড় ধরনের ব্রড-বেইজড (সব সেক্টরে ছড়িয়ে পড়া) উত্থান দেখা যায়নি। এর মানে হলো—বাজারের পুরো অংশ একসাথে বাড়ছে না, বরং নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারেই লেনদেন ও আগ্রহ কেন্দ্রীভূত।

আজকের বাজারের অন্যতম ইতিবাচক দিক ছিল লেনদেনের পরিমাণ। দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯২৯ কোটি টাকা। লেনদেন হওয়া শেয়ারের সংখ্যাও ছিল নজরকাড়া; প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার হাওলার মাধ্যমে আজ বাজারে ৩১ কোটি ৪৪ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছে।
আজকের বাজারে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় আজ দর বেড়েছে ২১৫টি কোম্পানির, দর কমেছে ১০৮টি কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬৬টি কোম্পানির শেয়ার দর।
লেনদেন ৯০০ কোটির বেশি হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক সিগন্যাল।এটা কয়েকটি বিষয় নির্দেশ করে, যেমনঃ বাজারে অ্যাক্টিভিটি বেড়েছে, বিনিয়োগকারীরা সম্পূর্ণ বাইরে নেই, বরং বুঝেশুনে অংশ নিচ্ছে এবং কিছু নির্দিষ্ট শেয়ারকে কেন্দ্র করে ট্রেডিং ইন্টারেস্ট তৈরি হয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই লেনদেন যদি সীমিত কিছু শেয়ারের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত থাকে, তাহলে সেটি টেকসই বাজার প্রবণতার ইঙ্গিত নয়।
কেন স্টকভিত্তিক দাপট?
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্টকভিত্তিক দাপটের পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে, যেমন: স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া, নির্দিষ্ট কোম্পানির সংবাদ, ডিভিডেন্ড বা প্রত্যাশা , বড় বিনিয়োগকারীদের সিলেক্টিভ এন্ট্রি এবং সামগ্রিক বাজারে আস্থার ঘাটতি, ফলে সবাই সব শেয়ারে ঝুঁকছে না
বাজারের বর্তমান চরিত্র
এখনকার বাজারকে বলা যায় “Selective Bullishness”অর্থাৎ, বাজার পুরোপুরি বুলিশ না হলেও কিছু স্টক ভালো করছে। দেখা যাচ্ছে সূচকের মাঝারি উত্থান, লেনদেন ও সন্তোষজনক বাজারে বিনিয়োগকারিদের অংশগ্রহণ সীমিত কিন্তু সক্রিয়।
তবে বাজারে কিছুটা ঝুঁকি আছে,কারণ সব শেয়ার সমানভাবে সাপোর্ট পাচ্ছে না।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা
এই ধরনের বাজারে, হঠাৎ বাড়তি শেয়ারে না ঝাঁপিয়ে ফান্ডামেন্টাল ও ভলিউম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি, শুধুমাত্র শেয়ার “মুভ করছে” দেখে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকিতে পরতে হবে বিনিয়োগকারীদের , স্টক সিলেকশনই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হিসেবে রেখে বিনিয়োগ প্লান সাজাতে হবে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামগ্রিক সূচক বড় কোনো লাফ না দিলেও নির্দিষ্ট কিছু সেক্টর ও ‘ব্লু-চিপ’ শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাজারকে সচল রাখছে। তবে বাজারের এই গতিধারা দীর্ঘমেয়াদী করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থার টেকসই পুনরুদ্ধার জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, টানা কয়েকদিনের ইতিবাচক প্রবণতা এবং লেনদেন ৯০০ কোটির ঘর অতিক্রম করা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।