শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বয়সের সীমাবদ্ধতা তুলে দিতে সংসদে একটি সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী আমির হোসেন মাহমুদ চৌধুরী।
বিশেষ কমিটিতে যাচ্ছে বিল
অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব করেন, বিলটি অধিকতর যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হোক। তিনি প্রস্তাব করেন, বিশেষ কমিটি যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিলটি পর্যালোচনা করে আগামীকালের (বুধবার) মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেয়।
অর্থমন্ত্রীএই প্রস্তাবের পর স্পিকার বিষয়টি সংসদের ভোটাভুটির জন্য উত্থাপন করেন। উপস্থিত সংসদ সদস্যরা কণ্ঠভোটে বিলটি বিশেষ কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেন। এ সময় স্পিকার “হ্যাঁ” সূচক ভোটের মাধ্যমে বিলটি বিশেষ কমিটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আসছে পরিবর্তন
প্রস্তাবিত এই বিলটি আইন হিসেবে পাস হলে বিএসইসির চেয়ারম্যান নিয়োগে বয়সের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা বাতিল হয়ে যাবে। ফলে যেকোনো বয়সের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিই ভবিষ্যতে সংস্থাটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আইনি বাধা দূর হলে সরকার দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্বে আনার সুযোগ পাবে।
গুঞ্জন ও প্রত্যাশা
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে বর্তমান বিএসইসি চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের খবর বিভিন্ন সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিনিয়োগকারী মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বাজারে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা ফেরাতে নতুন নেতৃত্বের দাবি দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলের ধারণা, এই সংশোধনী বিলটি পাস হওয়ার পরেই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিতে নতুন নেতৃত্ব নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারের বর্তমান ভঙ্গুর দশা কাটাতে দক্ষ নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। আইন সংশোধনের মাধ্যমে যদি যোগ্য ও অভিজ্ঞ কাউকে নেতৃত্বে আনা সম্ভব হয়, তবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করবে বলে আশা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
বিলটি বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং বুধবারের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনের পরেই বিলটি চূড়ান্ত পাসের লক্ষ্যে সংসদ অধিবেশনে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে।