পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিকমিউনিকেশন খাতের কোম্পানি রবি আজিয়াটা লিমিটেড চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল–জুন) ২৪.৪০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। ইন্টারনেট ডেটা ব্যবসা থেকেই তাদের এ মুনাফা এসেছে বলে জানিয়েছে, শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুঠোফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড।
রবি আজিয়াটা লিমিটেড জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তারা প্রায় ২,৫৪০ কোটি টাকা আয় করেছে। এ সময়ে কর–পরবর্তী মুনাফা ছিল ২৪.৪০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ফোর–জি নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করতে উল্লিখিত সময়ে রবি প্রায় ৭৬২ কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগ করেছে।
এ সময়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে রবি জমা দিয়েছে ১,৬৪৮ কোটি টাকা, যা রবির ২০২৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্জিত আয়ের ৬৬.০৩ শতাংশ। ২য় প্রান্তিক শেষে (এপ্রিল–জুন) রবির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দাঁড়িয়েছে ০.০৫ টাকা। যা আগের বছরের একই সময় ছিল লোকসান (০.০২) টাকা।
এছাড়া (জানুয়ারী –জুন) ৬মাস মিলে শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস দাঁড়িয়েছে ০.১৩ টাকা, যা আগে ছিল ০.০৫ টাকা।

রবি আজিয়াটা লিমিটেড জানিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল–জুন সময়ে নতুন ৮ লাখ গ্রাহক যুক্ত হয়েছে তাদের নেটওয়ার্কে। তাতে গ্রাহকসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৬৪ কোটি । এ ছাড়া দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবি নেটওয়ার্কে ১০ লাখ ডেটা ব্যবহারকারী যুক্ত হয়ে মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪.৩১ কোটি উন্নীত হয়েছে। রবির ফোর–জি ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩.২৪ কোটি। উল্লিখিত প্রান্তিকে রবির ডেটা গ্রাহকেরা প্রতি মাসে গড়ে ৬.৪৩ জিবি ডেটা ব্যবহার করেছে।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবির সার্বিক আয় ৮.২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডেটা আয় বেড়েছে ১৪.৪০ শতাংশ। আর ডেটার ব্যবহার বেড়েছে ৩.২শতাংশ।
ব্যবসার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রবির আজিয়াটার সিইও রাজীব শেঠি বলেন, নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও রবির সামগ্রিক কার্যক্রমে তাঁরা সন্তুষ্ট। বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাঁদের আয়ের ৩৯ শতাংশ ডেটা ব্যবসা থেকে এসেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয়ের একটা বড় অংশ বিভিন্নমাশুল হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে, যা তাঁদের ব্যবসায় প্রভাব ফেলেছে।
গুলশানে আজ বৃহস্পতিবার রবির প্রধান কার্যালয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় জানান রবির আজিয়াটার সিইও রাজীব শেঠি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন বর্তমান অবস্থানের মতো ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগাতে পারলে আগামীতে গ্রাহকদের এবং শেয়ার হোল্ডারদের জন্যে ভালো কিছু করতে পারবেন।