অর্থ লিপি

১৩ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

ওয়ালটন হাই-টেক ও ওয়ালটন ডিজি-টেকের মার্জারে আদালতের সম্মতি

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি এবং দেশের শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একীভূতকরণ (মার্জার) প্রক্রিয়ায় আদালতের সম্মতি মিলেছে। গত ২৯ জুলাই আদালত এ সংক্রান্ত আবেদনে সম্মতি দিয়েছেন।

কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে, ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি ও ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মধ্যে একীভূতকরণের বিষয়ে একটি পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। একই দিনে অনুষ্ঠিত ওয়ালটন হাই-টেকের ৪৬তম পর্ষদ সভায় মার্জার-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

পরবর্তী সময়ে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চলতি বছরের ২১ মে অনুষ্ঠিত ওয়ালটন হাই-টেকের বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি নেওয়া হয়। এরপর আদালতের অনুমোদনের মাধ্যমে মার্জার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

শক্তিশালী হবে পণ্য পোর্টফোলিও

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, একীভূতকরণ সম্পন্ন হলে ওয়ালটন হাই-টেকের পণ্য পোর্টফোলিও আরও বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওয়ালটন ডিজি-টেক ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার, মোবাইল ফোন, পিসিবি, ইলেকট্রিক বাইকসহ প্রায় ১২৩ ধরনের প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে।

মার্জারের ফলে এসব প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন, বিপণন ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ওয়ালটন হাই-টেকের বিদ্যমান অবকাঠামো ও বাজার নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিপণ্য ব্যবসা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দুই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চিত্র

কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরে ওয়ালটন ডিজি-টেকের পরিশোধিত মূলধন ছিল ৩০ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট রাজস্ব হয়েছে ৯১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৪ কোটি ৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে একই সময়ে ওয়ালটন হাই-টেকের পরিশোধিত মূলধন ছিল ৩০২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। কোম্পানিটির নিট রাজস্ব ছিল ৭ হাজার ৮২ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ১ হাজার ৩৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বিনিয়োগকারীদের নজর মার্জারের পরবর্তী প্রক্রিয়ায়

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্জার বাস্তবায়িত হলে দেশের শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওয়ালটনের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্য বৈচিত্র্য, বিপণন নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে একীভূতকরণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে মার্জারের আর্থিক ও ব্যবসায়িক সুফল কতটা বাস্তবে প্রতিফলিত হবে, তা নির্ভর করবে একীভূতকরণ-পরবর্তী কার্যক্রম, পরিচালন দক্ষতা এবং প্রযুক্তিপণ্য ব্যবসার সম্প্রসারণের ওপর।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওয়ালটন হাই-টেকের জন্য এ একীভূতকরণ তাই শুধু একটি করপোরেট পুনর্গঠন নয়, বরং প্রযুক্তিপণ্য ব্যবসাকে আরও বড় পরিসরে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।